পাথরঘাটায় গাছের সাঁকো দিয়ে ১৫ বছর ধরে ঝুকি নিয়ে পাড়াপার

14

আশরাফুল ইসলাম সাকিল,পাথরঘাটা বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার পাথরঘাটায় একটি খালের উপর কেওড়া গাছের সাকোঁ দিয়ে ১৫ বছর ধরে জীবনের ঝুকি নিয়ে পাড়াপার করছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিষখালী নদীর শাখা খাল হওয়ার কারনে সব সময়ই পানিতে ভড়ে থাকে এই খালটি।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্রের পূর্ব পশে গত ১৫ বছর ধরে খালের উপর স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সাকোঁ তৈরি করে আসছে এবং এই সাঁকো দিয়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষের প্রতিদিন চলাচলে করে। এ গাছের সাকো জীবন যাত্রাকে ব্যাহত করেছে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা খাল পারাপারে জীবনের ঝুকি নিয়ে যাতায়াত করছে। তবুও মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা এই সাকোঁ।সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, এই এলাকার মানুষের একমাত্র মাছ শিকার করে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। এখান থেকেই বিষখালী নদীতে যেতে হয়। তাদের মাছ শিকারের কাজে ব্যাবহৃদ মালামাল মাথায় নিয়ে এই ঝুকিপূর্ণ সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।একটি সেতুর অভাবে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ দুই পাড়ের গ্রামের হাজার হাজার বাসিন্দা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকোটির ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে। সাঁকোটি প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ। তবে এর পুরোটাই কয়েকটি কেওড়া গাছের খুটি দিয়ে তার উপরে আবারো কেওড়া গাছ দিয়েই লোকজন চলাচল করে। খুটির অনেক স্থানে দেখা গেছে পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।অনেক বৃদ্ধ ও শিশুরা সাঁকোর উপরে দেয়া গাছ ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভাবে পার হচ্ছে। সাঁকোটির উত্তর দিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও মক্তবসহ উপজেলার একমাত্র পাথরঘাটার বাজারে যেতে হয় এখান থেকে।
স্থানীয়রা দীর্ঘদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে এর প্রতিকার চাইলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি।
স্থানীয় আবু জাফর, ইয়াছিন আকনসহ বেশ কয়েকজনে জানান, আমাদের এ এলাকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের পথ এই সাকোঁ। এই খালের ওপর সাকোঁ থেকে প্রায়ই ভেঙ্গে পরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কিছুদিন আগে বিষখালী নদীতে মাছ শিকার করতে যাওয়ার সময় খালের মধ্যে সাকো ভেঙ্গে পড়ে গেছিল স্থানীয় কিছু লোক, পাশে লোকজন থাকার কারনে বড় কোন দুর্ঘটান ঘটেনি।তাছারা আমাদের বাচ্চাদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য সাকো পাড় করে দিতে হয়, না হলে কখন পড়ে বিপদ হয়। যে যখন এখানে থাকে সে তখন পাড় করে দেয় না হলে বাচ্চারা দাড়িয়ে থাকে কখন বড় মানুষ আসে সেই অপেক্ষায়!স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস ছত্তার জানান, ওই খালের উপর একটি ব্রীজ নির্মাণ করার জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে। এ বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে মাধ্যমে উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রানবাস্তবাায়ন অফিসে কথা হয়েছে। তারা এসে দেখে গেছে। এখানে একটি কালভার্ট হওয়ার সম্ভাভনা রয়েছে।এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা দুর্যোগ ও ত্রানবাস্তবাায়ন কর্মকর্তা অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতিমধ্যে আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখে এসেছি। মাটির নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে টেস্ট করার জন্য এবং একটি ব্রিজের জন্য প্রস্তাবনাও দেয়া হয়েছে। আসাকরছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে কিছু একটা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •