লকডাউনে শতাধিক বেদের মানবেতর জীবন-যাপন

মো: নূরবক্ত মিঞা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে লকডাউনে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন হেলিপ্যাডে আশ্রয় নেয়া ৫০ পরিবারের শতাধিক বেদে। বেদে মহিলারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে সিঙ্গা লাগানো, দাঁতের পোকা ফেলানো ইত্যাদি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর কিছু মহিলা মেয়েদের চুড়ি, ফিতা বিক্রি করে থাকে। আর রোদে পুরুষেরা সাপে খেলা দেখা ও কড়ি বিক্রি করে। এ ভাবেই বেদে পরিবার কোন রকমে জীবন-যাপন করে আসছিল। লবডাউন এর কারণে তাদের রোজগার এখন বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে অনেক সময়। সরকারের দেয়া ত্রাণ সহযোগিতা থেকেও বঞ্চিত এ বেদে পরিবারগুলো। বুধবার (৭জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে উলিপুর হেলিপ্যাডে বেদে পরিবারের আশ্রয়স্থলে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় শতাধিক আশ্রয় নেয়া বেদে পরিবার করুণ পরিস্থিতিতে রয়েছে। লকডাউনে রোজগারের সকল পথ এখন বন্ধ থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে নারী ও শিশুসহ বেদে পরিবারগুলো। বেদে শাহিন, দোলেনা, রহিম বলেন, ‘আমাগো ছবি তুইল্যা কি হবে ? মোরা গেরামে যাইতে পারি না। কোন কাজ-কাম নাই। হাট-বাজারে গেলে সবাই খেদাইয়া (তাড়াইয়া) দেয়। বাল-বাচ্চা লইয়া এহন কি খামু? বন্ধ হয়েছে করুনার (করোনা) কারণে মোগো রুটি-রুজি। ছবি তুইল্লা নেন বালা কথা, সরকারকে কইয়েন মোগো লাইগা কিছু চাউল-ডাউল (ত্রাণ) ব্যবস্থা কইরা দিতে।পরিবারগুলো আরও বলেন, জীবিকার তাগিদে বাপ-দাদার পেশায় যুক্ত থেকে আমরা দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াই খাবারের সন্ধানে। এক সময় জল পথে নৌকায় নৌকায় ঘুরে তাবিজ, সাপের খেলা, শিঙ্গালাগা, ঔষধি গাছ-গাছড়া বিক্রি করে চলত আমাদের সংসার। স্থল পথে গ্রামে গ্রামে ঘুরে আমাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। ওইসব গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় আমাদের আহার যোগে। করোনা ভাইরাসে লকডাউনে ্আমরা কোন গ্রামে ডুকতে পারি না। গ্রামে ডুকলে মানুষ আমাদের তাড়িয়ে দেয়। ঘরে খাবার নেই এখন আমরা কি করব বুঝতে পারছি না। বেদে সম্প্রদায়ের সরদার বলেন, প্রাকৃতিক দূর্যোগের থেকেও ভয়াবহ করনা ভাইরাস আমাদের তাবু বন্দি করে রেখেছে। লকডাউনের কারণে তাবুতে কর্মহীন হয়ে থাকতে হচ্ছে আমাদের। এখন আমরা খাবার সংকটে দিন কাটাচ্ছি। এ অবস্থায় সরকারের কাছে খাবারের দাব জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুম বলেন, বেদে পরিবারগুলোর খোঁজ নিয়ে তাদের সহায়তা করা হবে।