এক ব্যাংক কর্মকর্তা ,দুই নববধুর অতঃপর যা ঘটল!

0

আকতার হাসান কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বরকে নিয়ে দুই নববধূর টানাটানিতে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে উভয় পক্ষকে থামাতে গিয়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এক নববধূর পক্ষ নিয়ে বরকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে উভয়পক্ষের বিয়ের কাগজপত্রের বৈধতা দেখে হতবাক। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ অভিযোগ করেনি বলে ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের উত্তর ভরতের ছড়া গ্রামের মৃত: ময়েন উদ্দিনের পূত্র ও জনতা ব্যাংক ভূরুঙ্গামারী শাখার ক্যাশ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন গোপনে দুই নারীকে বিয়ে করেন। প্রথমে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে আব্বাস আলীর মেয়ে আশানুল আঁখিকে গোপনে চলতি বছরের মার্চ মাসে বিয়ে করেন। পরে ২৩জুলাই একই উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের খামার আন্ধারীরঝাড় এলাকার আয়নাল হকের মেয়ে আইরিনকে ১৬ লাখ টাকার দেনমোহরে বিয়ে করেন। অভিযোগ উঠেছে আইরিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে আশানুল আঁখিকে বিয়ে করায় ক্ষিপ্ত হয়ে আইরিন তার মামাবাড়ীতে ছানোয়ারকে ডেকে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে। বিয়ের পর মামার বাড়ীতে এক সঙ্গে দু’রাত কাটান তারা। শুক্রবার (৩০জুলাই) পারিবারিকভাবে আইরিনকে ছানোয়ারের বাড়ীতে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথাবার্তা হয়। সে মোতাবেক বাড়ীতে আয়োজন চলছিল। কিন্তু ছানোয়ারের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ যোগাযোগ না করায় আইরিনের পরিবার খোঁজ নিয়ে জানতে পারে ছানোয়ার আরেকটি মেয়েকে বিয়ে করে বাড়ীতে তুলেছে। এখবর পেয়ে ছানোয়ারের উত্তর ভরতের ছড়া গ্রামে গিয়ে আইরিনের পরিবার উপস্থিত হয়। এসময় ছানোয়ার আশানুল আঁখিকে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নে তার শ^শুর বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিল। এসময় দুই নববধূ ছানোয়ারের স্ত্রী’র দাবী নিয়ে প্রথমে ছানোয়ারকে নিয়ে টানা হেঁচড়া এবং পরে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এসময় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদেরকে শান্ত করে মীমাংসার উদ্যোগ নেয়।
মীমাংসা বৈঠক বসার পূর্বে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার একটি মাইক্রোবাসে ৮/১০জনসহ এসে আশানুল আঁখির পক্ষ নিয়ে বরসহ আঁখিকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।
আইরিন জানান, ছানোয়ার আমাকে প্রথম বিয়ে করেছে। বরযাত্রী নিয়ে আজকে আমাদের বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা। অথচ তার বাড়ীতে এসে দেখি নতুন বউ নিয়ে সে শ^শুরবাড়ী পাড়ি জমাচ্ছে। তাকে জোড় করে আশানুল আঁখি বিয়ে করেছে বলে দাবী করেন তিনি। আমি ছানোয়ারের বিয়ে করা প্রথম স্ত্রীর দাবী করে এখন তার বাড়িতে অবস্থান করছি।অপরদিকে আশানুল আঁখি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে ছানোয়ারের সাথে আমার বিয়ে হয়। নানা কারণে তা প্রকাশ করা হয়নি। এজন্য বৃহস্পতিবার (২৯জুলাই) রাতে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে শ^শুর বাড়ীতে আসি। আমিই ছানোয়ারের প্রথম স্ত্রী।সে (আইরিন) চায়ের দাওয়াত দিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা দেনমোহরে জোড় করে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছে। তার উদ্দেশ্য ভাল ছিল না।এ ব্যাপারে দুই নববধূ বিষয়ে ছানোয়ারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা না বলে সামনা সামনি দেখা করতে বলেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান আব্দুল হাই মাষ্টার জানান, একজন ব্যক্তি সপ্তাহের মধ্যে দুই বিয়ে করার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় বসার কথা ছিলো। তবে ছাত্রলীগের ছেলেরা এক পক্ষ নিয়ে এসে ছানোয়ারসহ আঁখিকে নিয়ে যায়। ভূরুঙ্গামারী উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মামুন সরকার জানান, আমরা কয়েকজন গিয়ে ছানোয়ার ও আঁখিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসি। সেখানে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আমার জানামতে ছানোয়ারের সাথে আঁখির বিয়ে এক বছর আগে রেজিস্ট্রি হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন জানান, স্ত্রীর দাবী করা দুইজনই ব্যাংক কর্মকর্তা ছানোয়ারের বৈধ স্ত্রী। এনিয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তারা মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে শুনেছি। যেহেতু এটি পারিবারিক বিষয় এবং দুজনের কাছে বিয়ের বৈধ কাগজপত্র আছে সে কারণে তাদের অভিভাবকদের সমাধানের পথ খুঁজে দেখতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •