সিরাজগঞ্জ উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ে সরব শাহজাদপুর মাটি ও মানুষ

179

রিয়াজ আহমেদ হান্নান,স্টাফ রিপোর্টারঃ সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের উপ নির্বাচনে নৌকার মাঝি হওয়ার দৌড়ে লড়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রা।
গত ২ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য, সাবেক শিল্প উপমন্ত্রী ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন মারা যান। তারপর নির্বাচন কমিশন আসনটি শুন্য ঘোষণা করে। ইতিমধ্যেই উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২ রা অক্টোবর থেকে ৬ অক্টোবর বিকেল ৫ টা পর্যন্ত মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমাদানের আহবায়ন জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন।ভোটের আগে মাঠের হাওয়া বইছে জোরেশোরে। নির্বাচন ঘিরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন নৌকা সমর্থকরা। কে ছিনিয়ে আনে তা বোঝা যাবে চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণার মাধ্যমে। এরই মধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন শাহজাদপুরের হেভিওয়েট নেতারা। এদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক শিক্ষাবিদ মরহুম প্রফেসর মযহারুল ইসলামের কন্যা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, তার আপন ছোট ভাই বিশিষ্ট শিল্পপতি, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী, সাবেক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক চয়ন ইসলাম। মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুইবার সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করা ও শাহজাদপুর পৌরসভার দুইবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সাবেক মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা হালিমুল হক মিরু এবং মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক, মিল্কভিটার সাবেক পরিচালক ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন। ড. সাজ্জাদ হায়দার লিটন বলেন, আমাকে যদি দায়িত্ব দেয়া হয়, নৌকার নমিনেট করা হয়,আমি যদি সংসদ সদস্য হয়ে আসতে পারি তবে তিনটি জিনিস বেছে নেব। সরকারের সহযোগিতা এবং আমার ব্যক্তিগত সহযোগিতা দিয়ে শাহজাদপুরের নদী ভাঙ্গন রোদে কাজ করে যেতে চাই। মাঠে রয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক, সাবেক সংসদ সদস্য চয়ন ইসলাম ও। তিনি সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ করছেন নিয়মিত। মনোনয়ন ছিনিয়ে আনতে দলের হাই কমান্ডের সাথে যোগাযোগ করছেন। আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা বলেছেন, চয়ন ইসলাম পেতে পারে মনোনয়ন। একই পরিবারের চয়ন ইসলামের বড় বোন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতাও মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সকলের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার আছে। আমি সেই অধিকারে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমাদান করেছি। নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই শিরোধার্য। নৌকার টিকিট পেতে হালিমুল হক মিরু মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তিনি বর্নাঠ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শাহজাদপুর পৌরসভার দুইবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তিনি ছাত্র রাজনীতি দিয়ে উঠে আসা এক অকুতোভয় দুঃসাহসী নেতৃত্বের অধিকারী। নানান ষড়যন্ত্র ও চরাই -উৎরাই পেরিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। তিনি শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দুইবার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মনোনয়নের জন্য মাঠে রয়েছেন।উপ নির্বাচন ঘিরে শাহজাদপুরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জনগণের মনের কথা জানা গেছে৷ অনেকের দাবি যে আসুক সে যেন নীতি আদর্শ আর জনগণের পাশে থেকে সাহায্য করতে পারে।
এদিকে উপ নির্বাচন নিয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে শাহজাদপুর বিএনপি। নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে কোন উচ্ছাস দেখা যাচ্ছেনা।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন সেই নৌকার মাঝি। কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হয় বা বিদ্রোহী প্রার্থীকে সহযোগিতা করে তবে সে বা তারা ছাড় পাবে না। আওয়ামী লীগের অনেক মন্ত্রী ও হেভিওয়েট নেতারা বলেছেন সিরাজগঞ্জ-৬ উপ নির্বাচন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যেই বিদ্রোহী প্রার্থী হবে, দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •