পরিকল্পনামন্ত্রীর প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান পাথারিয়া সেতু, খুশি ২৫ গ্রামের মানুষ

নিতাই দাস, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ(সুনামগঞ্জ)::

অনেক এমপি মন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেতু নির্মাণ করে দিবেন৷ কিন্তু সবাই কথাতেই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন কেউ সেতু বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে পারেন নি। স্বাধীনতার পর থেকেই সেতু থেকে বঞ্চিত ছিলাম আমরা। শেষমেষ পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয় আমাদের স্বপ্ন পুরণ করলেন। আমাদের মুক্তি দিলেন শতবছরের দুর্ভোগ থেকে। ভেবেছিলাম মৃত্যুর আগে হয়ত সেতু দেখতে পারব না। কিন্তু মন্ত্রী মহোদয় আশা পুরালেন। উনার উন্নয়নে কল্পনার কাছেও হার মানলাম। কথাগুলো বলছিলেন পাথারিয়া গ্রামের ষাটোর্ধ মখলিস মিয়া।

মখলিস মিয়ার মত আরেক বৃদ্ধা বলেন, সেতুর কাছ দৃশ্যমান দেখে মনটা ভরে গেছে। এ টা সেতু নয় আমাদের জন্য স্বর্গ স্বরুপ। আর এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে মান্নান সাবের জন্য। দোয়া করি আল্লাহ যেন উনাকে দীর্ঘ হায়াত দান করেন।

জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পাথারিয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া সেতুটির জন্য হাহাকার ছিল মানুষের। স্বাধীনতার পর থেকেই অনেকে আশ্বাস দিয়েছিলেন সেতু করে দিবেন কিন্তু কেউ বাস্তবায়ন করতে পারেন নি। এই সেতুটি জন্য চরম দুর্ভোগে ছিল ২৫টি গ্রামের মানুষ। মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে সেতু নির্মানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আলহাজ্জ্ব এম এ মান্নান এমপি। মন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার বহুল প্রত্যাশিত পাথারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব-পশ্চিমের মিলন সেতু ‌‌‌‘‘পাথারিয়া সেতুর কাজ এখন দৃশ্যমান। সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তরস্থাপনের পরপরই দ্রুত গতিতে চলছে ব্রীজ নির্মানের কাজ।

সেতুটির নির্মান কাজ শেষ হয়ে গেলেই পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের প্রায় ২০ কিমি রাস্তা কমবে উপজেলা সদরে আসার ক্ষেত্রে, তেমনিভাবে পূর্বাঞ্চলের মানুষেরও যাতায়াত ব্যবস্থাও হবে সহজ। তাদেরকে আর কষ্ট করে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হবে না। শুধু পাথারিয়া, কান্দিগাঁওই নয় সেতুটি নির্মাণের ফলে আসামমুড়া, কাশিপুর, নারাইনকুরি পুরান কান্দিগাও শ্যামনগরসহ ২৫ টি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থাও হবে সহজতর। শিক্ষা ও বাজার ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও আসবে আমূল পরিবর্তন। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের কথা চিন্তা করেই সেতু স্থাপনের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন মন্ত্রী। এবং প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেতুর বাস্থাবায়নও হচ্ছে দ্রুত গতিতে। সেতুটি দৃশ্যমান হওয়ায় পশ্চিম অঞ্চলের মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সুত্রে জানা যায়, পাথারিয়াএলাকার কালনী নদীর উপর নির্মানাধীন এই সেতুটিতে চুক্তিমূল্য অনুযায়ী ব্যয় হবে প্রায় ১৯ কোটি ৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৮ শত টাকা। সেতু নির্মানের কাজ করছে রানা বিল্ডার্স (প্রাইভেট) লিমিটেড -বাসেত প্রকৌশলী(জেবি)।

পাথারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রশীদ আমিন বলেন, আমার ইউনিয়নের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত সেতুর কাজ দৃশ্যমান দেখে অনেক ভালো লাগছে। পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের জন্যই আমরা শতবছরের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছি। তিনি আমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা বাস্থবায়ন করেছেন। সেতুটি আমাদের জন্য উন্নয়নের স্বর্গ স্বরূপ।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সেতু নির্মানের একমাত্র কৃতিত্ব আমাদের সুনামগঞ্জ রত্ন মাননীয় পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের। উনার জন্যই আমরা অবহেলিত পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ আলোকিত হচ্ছি। কত এমপি মন্ত্রী আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন সেতু নির্মান করে দেবেন কিন্তু আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারেন নাই। একমাত্র আমাদের মান্নান সাহেবই আমাদের স্বপ্নকে বাস্থবায়ন করেছেন। আমরা মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জানায়, সেতু নির্মানের কাজ দ্রুতই হচ্ছে। আমরা আশা করি খুব শীঘ্রই সেতু নির্মানের কাজ শেষ হবে এবং অঞ্চলের মানুষের বহুল প্রত্যাশীত স্বপ্নের বাস্থবায়ন হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) আল নূর তারেখ বলেন, মন্ত্রী স্যারের নির্দেশনায় দ্রুত গতিতে সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। আশাকরি দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান প্রভাষক নূর হোসেন বলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় পাথারিয়া সেতুর কাজ আজ দৃশ্যমান। সেতুটির কাজ শেষ হয়ে গেলেই শতবছরের দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পাবে এ অঞ্চলের মানুষ। শুধু পাথারিয়া বা নোয়াখালী সেতুই নয় মন্ত্রী মহোদয়ের উন্নয়নের আলোয় আলোকিত পুরো সুনামগঞ্জ। আমরা গর্বিত এই সজ্জন রাজনীতিবিদকে পেয়ে।