রাস্তার পাগলীকে খাবার ও নতুন পোশাক কিনে দিলেন আমিনপুর থানার এস আই রিপন

পাবনা থেকে আলমগীর কবির পল্লবঃ
গতকাল পাবনা আমিনপুর থানার কাজিরহাট এলাকায় এস আই রিপন ,এ এস আই মুরাদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে লকডাউনের ডিউটি করছিলেন । হঠাৎ এস আই রিপনের চোখ পড়লো একজন পাগলীর দিকে । তিনি লক্ষ করে দেখেন, পাগলীটি ছেড়া পোশাকে ক্ষুদার যন্ত্রণায় পথের কোণে ধুলিমাখা গায়ে পরে আছে । রাস্তা দিয়ে প্রয়োজন অপ্রয়োজনে অসংখ্য মানুষ যাচ্ছে কেউ পাগলীটির দিকে ফিড়েও তাকাচ্ছে না । তখন পরম ভালোবাসা আর সহানুভূতি নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যান এস আই রিপন । পাগলীটির পাশে গিয়ে বসেন তিনি । পাগলীটির করুণ পরিনীতি দেখে তখন এস আই রিপন দু চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না ।পরম মমতায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন পাগলীটির প্রতি । সাথে সাথে কিনে দিলেন কিছু খাবার । তাতেই তিনি থেমে যাননি । পাগলীকে নিয়ে যান পাশের একটি পোশাকের দোকানে । কিনে দেন একটি নতুন থ্রী পিছ । এবং সেটি তাৎখনিক মাপ ঝোক দিয়ে দ্রুত তৈরি করে নিকটস্থ একটি মহিলার সহযোগীতায় পাগলীর শরীরে নতুন থ্রী পিছটি পড়িয়ে দেন। পাগলীর প্রতি একজন পুলিশ অফিসারের এমন মমতা ও ভালোবাসা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকুক প্রতিটা মানুষের মাঝে । আজ আমাদের সমাজে এস আই রিপনের মত মানুষের বড়ই অভাব ।
আমরা প্রতিদিনই চলার পথে রাস্তা ঘাট হাট বাজারে অসংখ্য অসহায় মানুষ কিম্বা পাগল দেখতে পাই । কেউ উলঙ্গ, আবার কেউ ছেড়া জির্ন সির্ন পোশাকে পথের ধারে পরে আছে । আমাদের অনেকেরই দৃষ্টি যায়না সেই সব অসহায় মানুষগুলোর প্রতি । আবার ঘৃণায় আমরা অনেকেই মুখ লুকিয়ে দুর দিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে তাদের এড়িয়ে চলে যাই । একটু ভালোবাসা কিম্বা সহানুভূতি নিয়ে আমরা কি কখনো সেই সব সমাজ বঞ্চিত অসহায় মানুষগুলোর পাশে পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে যাই? না…. কখনোই যাই না , কারণ আমাদের ভেতর সেই মনুষত্ব বোধটুকুর বড়ই অভাব । আমরা যদি একটু সু-দৃষ্টি দিয়ে আমাদের চারপাশটা ভালোভাবে তাকিয়ে দেখি তবে দেখবেন কতই না পাগল অসহায় সমাজ বঞ্চিত মানুষগুলো হয়তবা বিনা চিকিৎসা কিম্বা অণাহারে পথের কোণে ধূলোর মাঝে পরে আছে । আমরা কি পারিনা তাদের মুখে একটু হাসি ফুটাতে? একবেলা তাদের মুখে খাবার তুলে দিতে? দুটো ঔসুধ নিয়ে সামনে দাঁড়াতে ? আসুন আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এদের পাশে দাঁড়াই । মানুষ হয়ে মানুষের প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়াই । আপনার পাশের অন্তত একজন পাগল অসহায়কে সহযোগীতা করে দেখুন নিজের কাছে নিজেকে কতটা গর্বিত মনে হয় । তাদের মুখের একটু হাসি আপনার মনকে কতটা আনন্দিত করে।