শেরপুরে সাব-রেজিস্টার অফিসে এক দলিলেই রাজস্ব ফাঁকি ১৪ লাখ টাকা

3

মাসুম বিল্লাহ, স্টাফ রিপোর্টারঃ কর্ম দিবসের শেষ দিন বিদায় বেলায় বগুড়ার শেরপুরের সাব-রেজিস্ট্রার নূরে আলম সিদ্দিকী ১৪ লক্ষ টাকা সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বুধবার (২৪ নভেম্বর) সকালে আইন বহির্ভূতভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তনের মাধ্যমে দলিল রেজিস্ট্রি করে এক দলিলেই সরকারকে ১৪ লক্ষ রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির ঘটনায় ব্যাপক আলোচনায় ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। দলিল লেখকদের অভিযোগ, বদলি জনিত কারণে এদিনই শেষ কর্মদিবস এই সাব-রেজিস্টার অনেকটা গোপনেই তরিঘরি করে দলিলটি রেজিস্ট্রি করেন। এতে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারালেও তার পকেটে উঠেছে মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু এই ঘটনাই নয়। এমন আরো অনেকটা ঘটনাই ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে। তাই সরকারের উচ্চমহল থেকে তদন্ত হলে এই উপজেলায় সরকারি লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির গোমড় বের হয়ে আসবে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মদনপুর মৌজায় দুই একর চার শতক বাণিজ্যিক জমি বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২’এর জেনারেল ম্যানেজার ক্রয় ১১০৯০ নং দলিলে ক্রয় করেন। জমি বিক্রেতা ঢাক উত্তরার ৯নং সেক্টরের ১০ এ উত্তরা প্লট নং ৯ এম এ জলিলের ছেলে এস এম কামাল হোসেন (বর্তমান ঠিকানা চন্দ্রনা ১৭০২ আউট পাড়া) সর্বশেষ জমির কাগজপপত্রে বাণিজ্যিক হিসেবেই নামজারি ও খাজনা পরিশোধ করেন তিনি। অথচ এই জমি ধানী হিসেবে উল্লেখ করে বুধবার দুপুরে তার নিকট থেকে জমিটি রেজিস্ট্রি করে নেওয়া হয়। পুরো বিষয়টি সাব-রেজিস্ট্রার নূরে আলম সিদ্দিকীকে ম্যানেজ করেই করা হয়। এতে করে সরকার বাণিজ্যিক জমি রেজিস্ট্রির নির্ধারিত ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে দলিল রেজিস্ট্রি করায় সরকার অন্তত ১৪ লাখ টাকা রাজস্ব হারিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এদিকে এই দলিলে সম্পাদনকারি হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন দলিল লেখক এম এম হাফিজুর রহমান (১৩২) । তাঁর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যারের সঙ্গে কথা বলে জমিটি দলিল করা হয়েছে। বাণিজ্যিক হিসেবে খাজনা পরিশোধ করা হয়।
বিষয়টি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চাইলে অভিযুক্ত সাব-রেজিস্টার নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, যথাযথ নিয়ম মেনেই দলিলটি রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এবং চেক বানিজ্যিক আছে তাতে সমস্যা নাই ধানী হিসেবে এমন অনেক জমি দলিল করেছি কোন সমস্যা নাই। তাই সরকার কোনো রাজস্ব হারাননি। এসব নিছক অপপ্রচার। আমি এখানে যোগদানের পর যেসব দলিল লেখক কোনো অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেননি মূলত তারাই আমার এই বিদায় বেলায় এধরণের মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করেছেন বলে দাবি করেন এই সাব-রেজিস্টার। এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: ময়নুল ইসলাম বলেন, দলিলটি আমারকাছে আসেনি, আমার কাছে আসলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন...