শেরপুরে ধসে যাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি সংস্কারে ছিন্নমূলদের মুখে হাসি

মাসুম বিল্লাহ, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:
“মুজিববর্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না”- মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সমগ্র দেশে নির্মাণ করা হয় ৬৬ হাজার ১৮৯টি দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি।সে মোতাবেক বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় দুই কোটি ৮৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে দুই শতক করে খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের অতিদরিদ্র ১৬৩টি ভূমিহীন পরিবারকে একটি করে আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়। দুই কক্ষ, রান্নাঘর ও টয়লেটসহ প্রধানমন্ত্রীর উপহারের প্রত্যেকটি বাড়ি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এরই ধারাবাহিকতায় খানপুর ইউনিয়নের খানপুর কয়েরখালি এলাকায় বুড়িগাড়ি নামক স্থানে খালের কিনারায় ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২২টি আধাপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে সুফলভোগীদের হাতে এসব বাড়ির জমির দলিল ও বাড়ির চাবি হস্তান্তর করা হয়।
বগুড়ার শেরপুরে ধসে যাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি সংস্কারে ছিন্নমূলদের মুখে হাসি । কিন্তু এসব নতুন বাড়িতে ওঠার আগেই ঘটে বিপত্তি। যদিও আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মান শিডিউলে গার্ডার ওয়াল ও মাটি ভরাট কাজের বাজেট না থাকলেও কর্তৃপক্ষ গার্ডার ওয়াল ও মাটি ভরাট করে দিয়েছিলো।অথচ বাড়িগুলো নির্মানের পর থেকেই কযেক দিনের টানা বৃষ্টির কারনে মাটি কিছু অংশ ধসে যায়। ফলে কয়েকটি বাড়ির ক্ষতি হয়। ভুমি ধসে গেলেও গাইড ওয়াল টি দাঁড়ান ছিলো,এ ঘটনায় সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারে এখন পোয়া বারো। শুধু বৃষ্টি নয় ঝড় জলোচ্ছাস ও মৃদু ভুমিকম্পসহনীয় ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে এই আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়িগুলো।এতে মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর পাওয়া ছিন্নমূল মানুষের মুখে হাসি ফুঁটেছে। ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ির বাসিন্দা (উপকারভোগী) মমতা বেগমসহ আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা বলেন- আগে অন্যের বাড়ির বারান্দায় রাত কাটাতেন। বাড়ি পেয়ে অনেক খুশি । এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা শারমিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক মেরামত কাজ নিয়মিত তদারকি করছি। প্রকল্প সংস্কারের একটি কমিটি হয়েছে। কমিটির সকলেই আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ মুহূর্তে সকলের সহযোগিতাই কাম্য।’শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ময়নুল ইসলাম, শেরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোছাঃ শামছুন্নাহার শিউলী, খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু’র পাশাপাশি শেরপুর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেক এর দিকনির্দেশনায় সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রত্যেকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজের সাথে সংযুক্ত হয়েছেন। মনিটরিং কমিটি সবসময় কাজের খোঁজ খবর রাখছেন। দ্রুত সময়ে কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।বগুড়ার শেরপুরে ধসে যাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি সংস্কারে ছিন্নমূলদের মুখে হাসি এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা যুবলীগ সভাপতি তারিকুল ইসলাম তারেক বলেন, প্রকল্পের যেখানে যে সমস্যা আছে প্রত্যেকটি জায়গায় শতভাগ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে এক ইঞ্চিও নড়বনা। কারণ, এই আশ্রয়ণ প্রকল্প রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার স্বপ্নের এবং আবেগের জায়গা ৷ এই আবেগকে যুবলীগ নষ্ট হতে দেবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

খানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম রাঞ্জু বলেন, এই আশ্রয়ণ প্রকল্প রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার যেমন স্বপ্নের এবং আবেগের জায়গা তেমনিভাবে আমারও আবেগের জায়গা কারণ, কাজ শুরুর প্রথম দিকে এ কাজ দেখতে যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে ১৫-২০ ফুট নিচে মোটর সাইকেলসহ পড়ে গিয়ে আমার পা ভেঙ্গে যায়। তারপর এবং দশটি স্ক্রু স্টেইনলেস রড দিয়ে ৬ মাস যাবৎ পা ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরবর্তীতে ভূমিধসের খবর পেয়ে কাজের সাইট পরিদর্শনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বাঁশ, খুঁটি প্যালাসাইটিং ড্রাম সিট, জিও ব্যাগ ইত্যাদি দিয়ে আবারো কাজ শুরু করে আবারো করোনায় আক্রান্ত হই। এরপর আমার প্রতিনিধি হিসেবে ১ নম্বর ওয়ার্ডের এজাব মেম্বারকে দায়িত্বভার দিয়ে মোবাইল ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও কাজের সাইডে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। বর্তমানে কাজের ৭০-৮০ ভাগ কাজ প্রায় শেষ । তবে, বর্তমানে যেভাবে কাজ করা হচ্ছে অতিবৃষ্টি বা মৃদু ভূমিকম্প সহনশীল ভাবে কাজ করা হচ্ছে। আর যেহেতু আমি কারিগরি, ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের কোন ব্যক্তি নয়। কাজের সাথে দেখভাল ছাড়া কোন কিছুতেই জড়িত ছিলাম না,শুধু নামেমাত্র কমিটিতে ছিলাম এই কারণে আমার উপর যতটুকু দায়-দায়িত্ব আছে আমি শতভাগ পূরণ করার চেষ্টা করেছি। বর্তমানে নিজস্ব অর্থায়নে সকল কিছু সরবরাহ করছি। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা, এলজিইডি কর্মকর্তা, গণপূর্ত বিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করছেন এই জন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। এবং অতি দ্রুত আমার নেত্রী রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার আবেগের ভালোবাসার আশ্রয়ণ প্রকল্প কাজ শতভাগ শেষ করব ইনশাল্লাহ।