ঐতিহ্যবাহী বাহন ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

মিজানুর রহমান মিলন, শাজাহানপুর (বগুড়া)প্রতিনিধি:

আধুনিকতার ছোয়ায় ও কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাহন ঘোড়ার গাড়ি যা টমটম গাড়ি নামে পরিচিত | বিপাকে পড়েছে ওই ঐতিহ্যবাহী বাহন(ঘোড়ার গাড়ি) ব্যবসায়ীরা ৷

এক সময় গ্রামে ও শহরে দেখা যেতো এই বাহন ৷ সৌখিনতার বাহন ছিলো ওই ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়ি( টমটম)৷ ছোট,বড়, কিশোর, কিশোরী , বৃদ্ধ সকলে শখ করে গাড়িতে উঠতো ৷ কিন্তু আধুনিকতার ছোয়ায় যন্ত্র চালিত বাহন থাকায় হারিয়ে যেতে বসেছে সৌখিনতার এই বাহন ৷

সরেজমিনে , বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার রহিমাবাদ দক্ষিণ পাড়া গ্রামের ঘোড়ার গাড়ি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক জানান , তিনি দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে ঘোড়ার গাড়ি চালান ৷ ওই উপজেলায় তার গাড়ি সহ ৮ টির মতো গাড়ি রয়েছে ৷তার বর্তমানে ৩টি ঘোড়া ও দুটি গাড়ি রয়েছে ৷ প্রতিটি ঘোড়ার জন্য প্রতিদিন গুড়া, ভূষি, খুঁদ ,লালী বাবদ ২০০-২৫০ টাকার খাবার লাগে ৷ আধুনিক যুগে যন্ত্র চালিত বাহন থাকায় তার এই বাহন ব্যবহার অনেক কমে গেছে ৷ তারপরও তার গাড়ি বৈশ্বিক করোনা ভাইরাসের আগে বিভিন্ন আনন্দ র‍্যালি , দলীয় প্রোগ্রামে , প্রহেলা বৈশাখে , বিবাহে , প্রশাসনের বিভিন্ন র‍্যালিতে সৌখিনতার জন্য ভাড়া নিতো ৷ তার একমাত্র আয়ের উৎস ছিলো এই গাড়ি ৷ কিন্তু করোনা কালিন সময়ে সব কিছু বন্ধ থাকায় তার গাড়ির ভাড়া না থাকায় বিপাকে পড়েছে তিনি ৷নিজেরা না খেয়ে থাকলেও অবোলা প্রানীদের প্রতিদিন ঠিকই খাবার দিতে হয় ৷ খাবার যোগাড় করতে গিয়ে দোকানের বাকী টাকা সহ মানুষের কাছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ঋণের মধ্যে আছেন ৷ তার একমাত্র আয়ের উৎস যদি না থাকে এই ঋণ কিভাবে পরিশোধ করবেন বলে জানান ৷ পরিশেষে ওই ঐতিহ্যবাহী বাহন টিকে রাখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি ৷