আদমদীঘিতে শিবগঞ্জের গৃহ নির্মান শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

38

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার আদমদীঘিতে বিল্ডিং নির্মান কাজ করতে এসে আজিজুল হক (৩২) নামের এক গৃহ নির্মান শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আদমদীঘি সদরের দক্ষিন গনিপুর তিনমাথা নামক স্থানে নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ের একটি কক্ষে তার গলায় দড়ির ফাঁস দেয়া অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়। নিহত আজিজুল হক বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে। সে আত্মহত্যা করেছে নাকি তাকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। পরদিন গতকাল ১ অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে আদমদীঘি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে।জানাযায়, আদমদীঘি সদর ইউনিয়নের দক্ষিন গনিপুর গ্রামের আছির আকন্দ মুনু তার সাবেক বাড়ি থেকে সরে গনিপুর তিন মাথা নামক স্থানে তার জায়গায় একটি নতুন বিল্ডিং নির্মান করছে। ওই বিল্ডিং নির্মানের জন্য বগুড়ার গাবতলি উপজেলার বাইগুনি ভুলিগাড়ি গ্রামের গৃহ নির্মান প্রধান মিস্ত্রি রিপনকে চুক্তিতে বিল্ডিং তৈরী কাজ করাচ্ছেন। প্রধান মিস্ত্রী রিপন তার অপর গৃহ নির্মান মিস্ত্রী একই উপজেলার কালাইহাটা গ্রামের কফির উদ্দিনের ছেলে শাহ আলম শেখ (৩০) শ্রমিক নিহত আজিজুল হক ও ধুলি গাড়ি গ্রামের জাহিদুলের ছেলে টুটুল ইসলাম (১৯) কে নিয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওই নির্মানাধীন বিল্ডিংয়ে থেকেই নির্মান কাজ শুরু করে। আর বাসার মুল মালিক আছির উদ্দিন মুনু তার সাবেক বাড়িতে স্বপরিবারে থাকেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনভর কাজ শেষে আজিজুলসহ শাহ আলম শেখ, টুটুল ইসলাম এই তিন শ্রমিক নির্মানাধীন বাসায় ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে গৃহ নির্মান শ্রমিক আজিজুল হকের গলায় দড়ির ফাঁস দেয়া অবস্থায় অপর একটি কক্ষের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার সহপাটিরা। এরপর জানাজানি হলে স্থানীয়রা অপর দুই শ্রমিককে আটক করে রাখেন। বাসার মালিক আছির উদ্দিন জানায়, তিনি তার মেয়ের বাড়ি রানীনগর ছিলেন সকালে খবর পেয়ে বাসায় আসেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম জানায়, ওই নির্মানাধীন বাসায় শুধু গৃহ নির্মান শ্রমিকরাই কাজ শেষে থাকতেন। রাতে তাদের মধ্যে কোন অপ্রীতি ঘটনার কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। মৃত আজিজুল হকের স্ত্রী ফাতেমা জানায়, তার স্বামী মানসিক রোগি ছিল। আদমদীঘি থানার অফিসার ইনচার্জ জালাল উদ্দীন জানান, মৃত ব্যক্তির পরিবারের দাবী সে মানসিক রোগি ছিল। লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত রির্পোট পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারন জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন...
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •