রাজশাহী ৩ আসনে মাদকাসক্ত ও অরাজনৈতিক প্রার্থীর হাতে দলীয় নৌকা

96

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আগামী ২৮ নভেম্বর সারাদেশে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীর এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চুড়ান্ত মনোনয়ন শেষ করেছে বর্তমান সরকার দলীয় তথা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়। এরই মধ্যে দল থেকে মাদকাসক্ত, একাধিক মামলার আসামী ও রাজনীতির আতুরঘর থেকে বেরিয়ে নৌকার মাঝির দ্বায়িত্ব পাওয়া নিয়ে চরম সমালোচনা মুখে পড়েছে রাজশাহী ৩ আসনের (পবা-মোহনপুর) সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন । মাত্র কয়েকদিন আগে তৃনমুলের একজন ত্যাগী নেতা ও সাংসদের কথোপকথনের অডিও ভাইরাল হয়েছে। এই নিয়ে তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম অসন্তোস বিরাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, গত ২১ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভায় একটি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে। এই প্রার্থীতা ঘোষনার পর থেকে তৃনমুল নেতাকর্মীদের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাযায়। কারন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিনতা পর রাজাকার আলবদরের এই দেশের মাটিতে বিচারিক কার্য চলমান রেখেছে জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালে সরকার গঠনের পরে দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে শুধু জনগণকে নিরাপদ রাখেনি, আওয়ামী লীগকেও সুসংগঠিত করেছে। আর জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দল গঠনের পর থেকে বংশ পরমপরায় আওয়ামী লীগ করে আসছে বহু ত্যাগি নেতা। এমনকি দলের যেকোন দুর্দিনে নির্ভীক মুজিব সেনার ন্যায় অগ্রনী ভুমিকা রেখেছে সব সময়। তবুও তাদের দলীয় মুল্যায়নের খাতায় যেন পোয়াবারো। আবার দলীয় আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয় অনেকেই নিজের মূল্যবোধ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দাবীদ্বার হিসেবে কেউ চেয়ারম্যান কেউ বা পৌর মেয়র পদ প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু সকল আশা-আকাঙ্ক্ষার গুড়েবালি পড়েছে টাকার কাছে। দলীয় নীতি-নৈতিকতা হারিয়ে টাকার কাছে বিক্রি হয়ে দুর্নীতিবাজ, মাদকাসক্ত, ডাকাতি- ছিনতায় ও অস্ত্র মামলার আসামীদের নৌকার মাঝির দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, দলীয় নৌকা তুলে দেয়া হয়েছে বাবার পরিবর্তে ছেলের হাতে। এই নিয়ে দলের নেতৃত্ব এখন চরমে। উদাহরণ হিসেবে উপজেলা ৪নং মৌগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল-আমীন বিশ্বাসের প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো। মাত্র ১.৫ লক্ষ টাকার সম্পদ নিয়ে বা দেখিয়ে ২০১৬ সালের নির্বাচনে আসেন চেয়ারম্যান আল-আমীন বিশ্বাস। মাত্র চার বছরের ব্যবধানে সেই সম্পদ বেড়ে কয়েক কোটি টাকা। এই আল-আমীন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক ছিনতায় ও অস্ত্র মামলা। শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে রয়েছে মদকের সম্পৃক্ততা। তার একদিন নেশা না করলে যেন দিন শুদ্ধ হয়না। তার বিরুদ্ধে জমি জবরদখল, প্রকল্পের টাকা দুর্নীতিসহ পাহাড় সমান অভিযোগ রয়েছে, যা আগামী পর্বে তুলে ধরা হবে। এই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকার দলের একাধিক ব্যক্তি বলেন, মাত্র কয়েকমাস আগেও একটি প্রকল্পের ২৭ লক্ষ টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে। পরে স্থানীয় সরকার রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক ড. চিত্রলেখা নাজনীন তদন্ত করে লক্ষ লক্ষ টাকার হেরফের পান এবং তাকে প্রকল্পের সমস্ত টাকা নিয়ে সেবারের মত মাফ করেন। এরকমভাবে সে ব্যাপক দুর্নীতি করেছে তা নাহলে এত সম্পদ আসলো কোথা থেকে? দুদককে তদন্ত করার জন্য আহব্বান জানাচ্ছি।
তবে এবিষয়ে ৪ নং মৌগাছী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আগামী নির্বাচনে নৌকা প্রার্থী আল-আমীন বিশ্বাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন...