ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
একুশে পরিবহনে মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া,ঘটনাটি ডাকাতি নয় বলছে পুলিশ
পূর্ব শত্রুতার জেরে অটোরিক্সা চালক হত্যা,গ্রেফতার ২
পিলখানা হত্যাকাণ্ড: ক্ষতিপূরণসহ চাকরি পুনর্বহালের দাবি বিডিআর সদস্যদের
ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে নোয়াখালী কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
শাহবাগে ফুলের দোকানে আগুন: ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক সংযোগ ও হাইড্রোজেন সিলিন্ডার ছিল বিপদের কারণ
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান
বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির ১১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
পঞ্চগড়ের বোদায় গুম, খুন, ছিনতাই, ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল
ফুলবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যদের নিয়ে ঈদ পূর্ণমিলনী
চাঁদাবাজির অভিযোগে কাঁঠালিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে শোকজ
রাজধানীর’ খেতাপুড়ি ‘দখল করেছে পটুয়াখালীর ঝাউবন
ঝিকরগাছায় কিশোরকে বস্তা কিনতে পাঠিয়ে ভ্যান নিয়ে চম্পট
১৭ বৎসর আন্দোলন সংগ্রাম করেছি ,দরকার হলে আবারো নামা হবে: আজিজুল বারী হেলাল
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের

উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতাঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫টি ইসিজি যন্ত্রের চারটি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটিরও প্রিন্টার অকেজো। একমাত্র এক্স-রে যন্ত্রটির ব্যবহারও সীমিত। সার্জারি চিকিৎসক না থাকায় সব ধরণের অপারেশন (ওটি) কার্যক্রম এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ। ফলে স্বল্পমূল্যে রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এ উপজেলা বাসি। এ ছাড়া চিকিৎসক ও কর্মচারী–সংকটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রোগীদের দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের ভরসার স্থান ৫০ শয্যার উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে ১৬ জন চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন এবং ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে ১ জন রয়েছেন। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটিতে গাইনি, শিশু ও মেডিসিন, নাক, কান ও গলাবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ানের তিনটি, অফিস সহায়ক ৫টি পদ ফাঁকা। ৩ জন ওয়ার্ড বয়ের বিপরীতে আছেন একজন, ৩৬টি নার্স পদের মধ্যে ৩৩ জন রয়েছেন এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৫ জনের মধ্যে আছেন একজন। হাসপাতালে দুজন আয়া থাকার কথা থাকলেও একজনও নেই। এছাড়াও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং ইউনিয়নে ৬ জন মিলে মোট ৮ জন উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে ৬ জন রয়েছে। এসব উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার দিয়ে বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগের রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, ৫টি ইসিজি যন্ত্রের ৪টি বিকল হয়ে পড়ে আছে। একমাত্র সচল পুরাতন ইসিজি যন্ত্রটি জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য রাখা হয়েছে। ডিজিটাল আলট্রাসনোগ্রাম যন্ত্রটির প্রিন্টার নষ্ট। জরুরী প্রয়োজনে চিকিৎসকরা আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট কম্পিউটারে দেখে রোগ নির্ণয় করছেন। প্রিন্ট রিপোর্ট না পাওয়ায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে রোগীদের প্রশ্ন রয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালে সার্জারী চিকিৎসক না থাকায় সব ধরণের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ। তবে জরুরী বিভাগে আসা রোগীদের ওয়ার্ড বয় ও উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে ফোঁড়া অপারেশন করতে দেখা গেছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা কেউ পরীক্ষণ যন্ত্র না থাকায় ফিরে যাচ্ছেন আবার কেউ কেউ বাইরে ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করাচ্ছেন।
উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মোজাম্মেল হক (৬০) জানান, হার্নিয়ার সমস্যা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে বহির্বিভাগীয় কাউন্টারে টিকিট করার পর জানতে পারেন এখানে অপারেশন করার চিকিৎসক নেই। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাঁকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, ‘এতো বড় হাসপাতালে অপারেশন করার ডাক্তার নাই। গরীব মানুষ বেশি টাকা নিয়ে আসি নাই। বাসায় গিয়ে পরিবারের সাথে আলোচনা ও পরামর্শ করে ঈদের পর অপারেশন করাবো।’
উপজেলার ধরণীবাড়ি ইউনিয়নের মাঝবিল গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর রহমান (৬৬) এজমা জনিত সমস্যায় পাঁচ দিন আগে ভর্তি হয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে এজমায় শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরে পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হই। এখনো কাশতে কাশতে দম বন্ধ হয়া আসে। ডাক্তাররা ইসিজি করতে বলেছেন। এখানে(হাসপাতালে) ইসিজি হলে করলাম হয়। কিন্তু হাসপাতালের ইসিজি যন্ত্র নষ্ট। শরীর দূর্বল তাই বাইরের ক্লিনিকে যাইনি। মরি বাঁচি এই হাসপাতালেই আছি, আল্লাহ ভরসা।’উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক মেহেরুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের কারণে রোগীদের সেবা পেতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। একজন ওয়ার্ড বয় জরুরী বিভাগে ফোঁড়া অপারেশন করতে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি এখানের ভারপ্রাপ্ত আরএমও, ফুল আরএমও নই। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আপনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলুন।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, উপজেলার পাঁচ লক্ষাধিক বাসিন্দাদের এই হাসপাতালে ১৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের বিপরীতে ৩ জন এবং ১০ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে ১ জন রয়েছেন। ওয়ার্ড বয়, আয়া, যন্ত্রপাতি, অ্যাম্বুলেন্সসহ সকল পর্যায়ে সংকট রয়েছে। দৈনিক বহির্বিভাগে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং অন্তঃবিভাগে প্রায় ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এতো সংকট নিয়ে বিপুল জনসংখ্যার সেবায় নিয়োজিত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসা সংকটে চলছে। ছয় মাস আগে ইসিজি যন্ত্র মেরামতের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখনো কোন খবর নেই। ওয়ার্ড বয় জরুরী বিভাগে ফোঁড়া অপারেশন করতে পারে কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে সার্জারী চিকিৎসক না থাকায় সব ধরণের অপারেশন বন্ধ আছে। অনেক সময় রোগীর অনুরোধে ছোট ছোট অপারেশন জরুরি বিভাগে হয়। তবে ওয়ার্ড বয় সেসব করে না। আমি বিষয়টি দেখবো।’

শেয়ার করুনঃ