
মিরসরাইয়ের করেরহাটে দীর্ঘ পাঁচ বছরেও হয়নি গৃহবধূ মুন্নী হ-ত্যার রহস্য উদঘাটন ও কূলকিনারা। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ ভুক্তভোগী পরিবার, এই নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয়দের মাঝে।উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল (রবিবার) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম অলিনগর গ্রামের সওদাগর বাড়িতে গৃহবধূ কুলছুমা আক্তার মুন্নী’র নি-র্মম মৃ-ত্যুর ঘটনা ঘটে। গৃহবধূ মুন্নী ঐ বাড়ির কাতার প্রবাসী আক্তার হোসেন প্রকাশ মুক্তার এর স্ত্রী।একই বছরের ৬ এপ্রিল উক্ত ঘটনায় নি-হতের বড় ভাই ফিরোজ আহমেদ বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নি-হতের স্বামী আক্তার, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি, ২ ঝা ও ভাসুরসহ ৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৩০৬ ধারায় মামলা নং-৭/(৪)২০২০ দায়ের করেন, যাহার জি.আর মামলা নং-৭/৬৮।মামলা দায়েরের ৬ মাস পরে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট প্রকাশ করা হলে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নারাজি দিয়ে একই বছরের ১২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে উক্ত মামলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’তে স্থানান্তর করা হলে ঘটনার ১০ মাস পরে ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী উক্ত ঘটনা তদন্তের নিমিত্তে পিবিআই এর টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।প্রায় ১০ মাস তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর পিবিআই’র পক্ষ থেকে চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।পিবিআই তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে নারাজি দিলে ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী নি-হতের শিশু পুত্র আরাফাত হোসেন মাহিনের জবানবন্দি’র উপর ভিত্তি করে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে উক্ত মামলা পরবর্তীতে অধিকতর তদন্তের জন্য ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি’)তে স্থানান্তর করা হয়। সেই প্রেক্ষিতে ঘটনার ২ বছর ২ মাস ১৩ দিন পরে ২০২২ সালের ১৭ জুন (শুক্রবার) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)’র পুলিশ পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘ প্রায় ১৬ মাস পরে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সিআইডি’র পক্ষ থেকে আদালতে তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করা হলে পরের দিন অর্থাৎ ঐ বছরের ১১ অক্টোবর সিআইডি থেকে প্রাপ্ত রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আদালতে শুনানি হয়। বর্তমানে মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে মুন্নী’র স্বামী আক্তার হোসেন কাতার থেকে দেশে আসে এরই মধ্যে বিষয়টি জোরারগঞ্জ থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে ২০ জানুয়ারি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘদিন আত্মীয় স্বজনদের বাসায় পলাতক ভাবে অবস্থান করে এক মাস পরে বিদেশে পাড়ি দেয়।এছাড়াও জুলাই বিপ্লবের পটপরিবর্তনের পরে মামলা উঠিয়ে নিতে বাদীকে চাপ প্রয়োগ করে এবং চলতি বছরের মার্চ মাসের ৫ তারিখে বিবাদী পক্ষের ৮ জন সমঝোতা ও আপোষ করতে বাদীর বাড়িতে আসে।নি-হত গৃহবধূ মুন্নীর বড় ভাই ও মামলার বাদী মাস্টার ফিরোজ আহমেদ জানান, ২০২০ সালের ৫ এপ্রিল একমাত্র বোন কুলছুমা আক্তার মুন্নীকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নি-র্মমভাবে খু-ন করে আ-ত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ফাঁ-সিতে ঝুলিয়ে রাখে। এভাবেই পাঁচটি বছর পার হয়ে গেলো। বাড়ি, থানা আর জর্জ কোর্টে দৌঁড়াদৌড়িতে আমরা দিশেহারা। তবুও আমরা হাল ছাড়িনি। আশাকরি একদিন সত্য উন্মোচন হবে এবং প্রকৃত অপরাধীরা তাদের উপযুক্ত শাস্তি পাবে।তিনি আরও বলেন, আমি চাই আমার বোনের হ*ত্যাকারীরা কেউ যেন কোনভাবেই ছাড় না পায় এবং সেই সাথে ইন্ধনদাতা, তথ্যদাতারা সহ অন্য অপরাধীরাও যেন কোনভাবেই পার না পায়। আমার বোনের মতো কারো পরিবারে যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃ-ত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।