
রাশিদুজ্জামান সরদার ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি :বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, দূর্নীতি, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজ, সুদ, ঘুষ, ধর্ষণ, বৈষম্য ও শোষণমুক্ত দেশ গড়তে ইসলামী শাসন বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। এ দেশের মানুষ আর কোন স্বৈরাচারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে সৎ, যোগ্য, দেশপ্রেমিক লোক এখন সময়ের দাবী। যা সাপ্লাইয়ের কারখানা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তিনি বলেন, বিগত সরকার উন্নয়নের কথা বলে বিদেশে টাকা পাচার করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করেছে। চেতনার কথা বলে জাতিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে জাতীয় ঐক্য ও উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করেছে। নতুন এই বাংলাদেশে সেই ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাসত করা হবে না। তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে যথা সম্ভব দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী উদ্যোগে বরুনা বাজারে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনীতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন। ইউনিয়ন আমীর মোস্তাক আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা মুজিবুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আমীর মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা, ডুমুরিয়া-ফুলতলা কল্যাণ পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডুমুরিয়া উপজেলা আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমীর গাজী সাইফুল্লাহ, সেক্রেটারি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা হিন্দু বিভাগের সহ-সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি মফিজুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার আব্দুর রশীদ, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি বি এম আলমগীর হোসেন, আমানুল্লাহ, মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন, মাওলানা আবু জাফর মোল্যা, গাজী আব্দুস সাত্তার, মোস্তফা কামাল, আবদুল কাদের মোল্লা, গাজী খোরশেদ আলম, গাজী কামরুজ্জামান, বরুনা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী গাজী প্রমূখ। সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিগত জালিম সরকারের আমলে আমরা ১১ জন শীর্ষ নেতাকর্মীকে হারিয়েছি। ৫ শতাধিক মানুষ পঙ্গু হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ হামলা-মামলার শিকার হয়ে দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছিল। আগস্টের ১ তারিখ আমাদের নিষিদ্ধ করা হয়। সে সময় আল্লাহ তায়ালাকে বলেছিলাম, ৪ দিন পর আল্লাহ তায়ালার বিচার হয়েছে। জুলাই বিপ্লবে ছাত্রদের সঙ্গে আমরাও ছিলাম। জালিমের মাথা আল্লাহ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর উন্মুক্তভাবে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারছি। এবারের ঈদে বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত খুশি ও আনন্দিত। এ ধরনের পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠান পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়িয়ে তোলে এবং সমাজে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ইসলামী তাকওয়া অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। এবং ফিলিস্তিনি ভাইবোনদের করুণ অবস্থা উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের সাংগঠনিক মান বৃদ্ধি করে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে নির্বাচিত করার চেষ্টা করতে হবে। দুনীতি, হত্যা, নির্যাতন, জুলুম কি না করেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আবার ঘুরে দাড়িয়েছে। দেশে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে। সেই কাজকে গতিশীল করতে আপনাদের সকলের ভুমিকা রাখতে হবে। তিনি আরও বলেন, ইসলাম একটি কল্যাণকর পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েমের কোন বিকল্প নেই, অবশ্যই সেখানে কুরআনের আইন প্রতিষ্ঠা করা দরকার আর এ জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন চায় তবে তা সংস্কারের পরে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরআগে বিকেলে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে দরিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে রুদাঘরা সরদার পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ছাগল বিতরণ ও কর্যে হাসানা প্রদান অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। পরে তিনি ১০ জন পুরুষ ও মহিলার মাঝে ছাগল বিতরণ করেন। পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম সরদারের সভাপতিত্বে ও সভাপতি অধ্যাপক আনিচুর রহমানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুন্সি মঈনুল ইসলাম ও অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা। অন্যান্যের মধ্যে মাওলান আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, মাওলানা মোক্তার হোসেন, মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, মোস্তফা কামাল, তৈয়েবুর রহমান, গাজী শহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন গোলদার, সিরাজুল ইসলাম বিশ্বাস, ক্বারী ফেরদাউস গাজী, হুমায়ুন কবির প্রমূখ। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানুষের রচিত আইনকানুনের কারণে যে বৈষম্য, জুলুম ও শোষণ সৃষ্টি হয়েছে এগুলো থেকে সমাজকে বের করে এনে সুন্দর স্বাচ্ছন্দ্য জীবন এবং ভারসাম্যপূর্ণ অর্থব্যবস্থা নিশ্চিত করে যাকাত। সে কারণে যাকাত ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। বাংলাদেশে যত ধনী আছে তারা যদি যাকাত দেন তাহলে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে একজনও দরিদ্র থাকবে না। সবাই যাকাতদাতা হয়ে যাবে। আমাদের সমাজ যাকাতকে বর্জন গণতান্ত্রিক পুঁজিবাদী, তথাকথিত ধর্ম নিরপেক্ষ চিন্তা চেতনার ওপর গড়ে উঠার কারণে সমাজের মানুষের শোষণ বঞ্চনা দূর হচ্ছে না। যাকাত ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালু না হলে এটা দূর করা