লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৯নং ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ড, এলাহি বক্স পাটোয়ারী বাড়িতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির যৌথ হামলায় একই বাড়ির নারী সহ ৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জাহাঙ্গীর নামের একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়েছে।
অন্যান্য আহতরা হলেন, সারমিন (২৫), আবুল কাশেম (২৮), তানভীর (২০), জাবেদ।
৪ এপ্রিল ( বৃহস্পতিবার) তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা ৭ টা থেকে শুরু করে রাত ৯ টা পর্যন্ত দুপক্ষের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র সহ তুমুল সংঘর্ষ হয়।
গুরুতর আহত জাহাঙ্গীরের ভাই জশিম এবং আহত সারমিনের ভাই জাবেদ বলেন, " ছাত্রলীগের তানভীর সহ কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রথমে আমাদের বাড়ির টিনে ঢিল ছুড়ে, আমি জিজ্ঞেস করায় আমার গলা চেপে ধরে মারধর করার সময় আমার বোন সারমিন আমাকে বাঁচাতে দৌড়ে এসে তখন আমার বোনের উপরও তারা হামলা করে বোনকে মেরে জখম করে। স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি তখনই মিমাংসা করে দেয়। আমরা বাড়িতে চলে আসি ঘন্টা দেড়েক পরে তানভীর ও বিএনপির যুবায়েরের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা করে আমাদেরকে বেদম মারপিট করে চেনি দিয়ে কুপিয়ে আমার পিতা জাহাঙ্গীরের মাথার মগজ বের করে দিয়ে চলে যায়। আমার বাবা ও বোন সারমিন এখন মৃত্যুের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। হামলাকারীদের মধ্যে যাদেরকে চিহ্নিত করতে পেরেছি তারা হলো , তাবভীর( ২০) পিতা মৃত আনোয়ার লাঠিয়াল, নাবিল (১৩) পিতা মৃত ইব্রাহিম পাটোয়ারী, সাজু (২৪) পিতা সানা উল্ল্যাহ পাটোয়ারী, জহির পিতা আব্দুর রহিম, যুবায়ের পিতা আব্দুর রহিম, সাব্বির পিতা মিন্টু, সাবির পিতা শফিক, সাব্বির সাম পিতা সহিদুল্লাহ, রুবেল পিতা নাজির আহমেদ, সাকিল পিতা অজ্ঞাত, ফারহান কবিরাজ পিতা সোলেমান, রায়হান পিতা লতিফ, মুনসুর সাম পিতা পন্ডিত আলী সহ নাম না জানা আরও ৩৫ জন হবে। পরে খবর পেয়ে তৎক্ষনাৎ হায়দারগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে পুলিশ আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতরা রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে সালিসির কথা চলছে, রোগীর চিকিৎসা শেষে মামলা করব কীনা তখন জানাবো। "
অপরদিকে হামলাকারী যুবায়েরের পিতা আব্দুর রহিম বলেন, জাহাঙ্গীরের ছেলের সঙ্গে তানভীরের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হাতাহাতি হয়। তখন ওরা তানভীর কে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয়। তানভীরের রক্ত দেখে পরে ২০ থেকে ৩০ জন মিলে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা করে। আমার ছেলে বিএনপি করে এবং হামলাকারীদের অধিকাংশই আওয়ামীলীগের। আমার ছেলেও তখন তাদের সঙ্গে গিয়েছিল। হামলা করেছে কীনা জানিনা। সেই থেকে আমার ছেলে এখন পর্যন্ত বাড়িতে আসেনি। বাকী হামলাকারীরা সবাই পলাতক রয়েছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীরের মাধ্যমে এটা সালিসির কথা চলছে। "
এবিষয়ে ৯ নং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুলত হামলা করা হয়েছে। হামলায় জাহাঙ্গীরের অবস্থা আশংকাজনক। এ হামলার সঙ্গে কোন রাজনৈতিক জড়িত নয়। যেখানে একজন মৃত্যুের সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন সেখানে আমি কী সালিসি করবো। আমাকে তৃতীয় পক্ষের কয়েকজন বলেছিল বিষয়টি মিমাংসা করে দিতে। আমি সঙ্গে সঙ্গে না বলে দিয়েছি। তবে যেভাবে হামলা করা হয়েছে সেটা অমানবিক। আমি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। হামলাকারীদের অধিকাংশই আওয়ামীলীগের। আহত জাহাঙ্গীর বিএনপির। আরও কেউ বিএনপির আছে কিনা আমি জানিনা। "
এবিষয়ে হায়দারগঞ্জ ফাঁড়ির আইসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, " খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ফোর্স পাঠানো হয়েছে, ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন হামলাকারী কে পাওয়া যায়নি। একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। যতটুকুর শুনছি তুচ্ছ ঘটনাকে নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে এ হামলা হয়েছে। হামলায় একপক্ষের একজন এবং অন্য পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"