ঢাকা, রবিবার, ৬ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ
পাঁচবিবিতে মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন জামায়াতের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
টিআরসি নিয়োগে দালালমুক্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার আশ্বাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের
উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে রোগীদের দূর্ভোগ
চিলমারীতে ঐতিহ্যবাহী অষ্টমির স্নান সম্পন্ন
বিএনপি নেতার ওপর বোমা হামলার প্রতিবাদে কয়রায় বিক্ষোভ মিছিল
লঞ্চে মুমূর্ষ নবজাতককে মেডিকেল সহায়তা প্রদান করল কোস্ট গার্ড
আমতলীতে লঞ্চ ঘাট ও বাসস্ট্যান্ডে যৌথবাহিনীর অভিযান, জরিমানা আদায়
কালীগঞ্জে আমিনুর রহমান আমিনের গণসংযোগ শুভেচ্ছা বিনিময়
আমতলীতে হামলা, লুট ও পিটিয়ে দোকান দখলের অভিযোগ
দেওয়ানগঞ্জে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বৃদ্ধ বাবা মৃত্যু
নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের ঈদ পুনর্মিলনী
জামায়াতে ইসলামীতে চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ নেই:রফিকুল ইসলাম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করতে হবে
ভূরুঙ্গামারীতে মুভমেন্ট ফর পাঙ্কচুয়ালিটি’র সম্মেলনের উদ্বোধন
বিরামপুরে আগ্নিকান্ডে সনাতন পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই

বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানি-হেনস্তা, গ্রেফতার ৩

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় রাফিয়া তামান্না নামে এক নারী সাংবাদিককে যৌন হয়রানি,হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশান (২৫)সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৩)।

বৃহস্পতিবার (০৩এপ্রিল) র‍্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সনদ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলো-প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশান (২৫),মো.রাইসুল ইসলাম (২১),মো.কাউসার হোসেন (২১)।

সনদ বড়ুয়া বলেন, গতকাল বুধবার (২ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর রামপুরা এলাকায় যৌন হয়রানি সংক্রান্ত একটি ঘটনা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হলে তা ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় উল্লেখিত এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র‍্যাবের গোয়েন্দা টিম মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে।

তিনি বলেন,গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সোয়েব রহমান জিশান (২৫),কে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) গভীর রাতে রাজধানীর রামপুরা থানাধীন মেরাদিয়া এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানীর রমনা থানাধীন বেইলি রোড এলাকা হতে মো.রাইসুল ইসলাম (২১),কে এবং শ্যামপুর থানাধীন গেন্ডারিয়া এলাকা হতে মো.কাউসার হোসেন (২১),’কে আজ সকালে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের রামপুরা থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এর আগে গতকাল, বুধবার (২ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে বনশ্রীর ই-ব্লকের তিন নম্বর সড়কের একটি জুসের দোকানের সামনে রাফিয়া তামান্না নামে এক নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠে। এসময় নারী সাংবাদিক রাফিয়া তামান্না ও তার ছোট ভাই রিশাদকে মারধরের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রামপুরা থানায় সোয়েব রহমান জিসানের (২৫) নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক রাফিয়া তামান্না জানান,ছোট ভাই রিশাদকে নিয়ে বনশ্রী ই-ব্লকের তিন নম্বর রোডের মুখে একটি জুসের দোকানে ছিলাম। এসময় কয়েকজন স্থানীয় যুবক আমাকে উত্যক্ত করতে শুরু করে। আমার ভাই প্রতিবাদ করলে তারা প্রথমে তাকে মারধর করে। আমি বাধা দিতে গেলে তারা আমাকেও শ্লীলতাহানি করে এবং কিল-ঘুষি মারে।

তিনি বলেন,আমরা নিজেদের বাসার সামনেই নিরাপদ নই। ছেলেগুলো এমনভাবে আচরণ করছিল যেনো তারা যা করছে,সেটাই তাদের অধিকার। আমার ভাই যখন প্রতিবাদ করল,তখন তারা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। এমনকি তারা আমাকে হেনস্তা করার পরও অকপটে বলে, হ্যাঁ, আমরা রেপ করেছি,কী করবে?

পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিক রাফিয়া তামান্না নিজের ফেসবুকে অভিযুক্তদের ছবিসহ একটি স্ট্যাটাস দেন।

সেখানে তিনি লিখেন,নিজের বাসার সামনে নিরাপদ না? আমাকে এক দোকানের (বনশ্রী- ই ব্লক ৩ নং রোডের শেশে,ফরাজী এভিনিউ) ভেতর থেকে টিজ করে পাশে এসে দাঁড়ানোয় আমার ভাই ছেলেগুলোর সামনে এসে দাঁড়ায়,। আমাকে টিজ করা তাদের অধিকার ধরনের ভাব নিয়ে উলটা আমার ভাইকেই বলতে থাকে ওদের সামনে এসে কেন দাঁড়াল,কেন তাকাচ্ছে। আমার ভাই বলল আমার বোনকে উত্যক্ত করল দাঁড়ায় দেখব নাকি, এরপর আমার ভাইকে বাড়ি কই বাড়ি যাই বলে এগ্রেসিভ অঙ্গভঙ্গি শুরু করে,সম্ভবত এলাকার মাস্তানদের পালিত মাস্তান এরা। এরপর আমার ভাইকে মারা শুরু করে,আমি ওদের টান দিয়ে আমার ভাইকে উঠাইতে যাই,এরমধ্যে সবুজ জামা পড়া ছেলেটা এসে পিছন থেকে আমার চুল টান দিয়ে বুকে হাত দিয়ে হ্যাচকা টান দেয়,কালো গেঞ্জির ছেলেটা লাথি দেয়, এরপর আমি যা হয় কাঁদতে কাঁদতে চিল্লাতে থাকি সবাই দেখতেসেন কীভাবে আমার গায়ে বারবার হাত দিচ্ছে। এর মধ্যে সবুজ গেঞ্জির ছেলে এসে বলে আমি সাংবাদিক কাকে ডাকবি কোন পুলিশ ডাকবি ডাক, আমার নাম বল। আমার সাথে থাকা মাশফিক ব্যস্ত ছিল আমাকে ধরে রাখতেই, এরমধ্যে ও বলে আপনি কোথাকার সাংবাদিক, আমি ডেইলি স্টারের,ওকেও লাথি দেয় ছেলেটা। আমার গায়ে ব্যথা। তবে আমার ভাইয়েরটা জানি না,বোনকে বাঁচাতে গিয়ে আমাদেরই বাসার সামনের গলিতে এসব দুই টাকার মাস্তানদের ইচ্ছামত মার খেল। সবার দাঁড়ায় থাকা দেখে পালটা দুই একটা আমিও দেই, আফসোস বেশি দিতে পারিনাই।

আমি যখন কাঁদতে কাঁদতে চিল্লাতে চিল্লাতে অজ্ঞান হওয়ার মতো অবস্থা হয়ে যাচ্ছিল,এই ছেলেদুইটা বারবার মুখ কুচকে বলেই যাচ্ছিল, ‘হ রেপ করসি আমরা’

ডিআই/এসকে

শেয়ার করুনঃ