
দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে প্রায়ই একটা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়- স্যার গণিত বাস্তব জীবনে কি কাজে লাগে? মানবিক বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী বলে থাকে- গণিত যদি এতই কাজে লাগে তাহলে এসএসসির পরে এটি আর নেই কেন?
আসলেই তো চিন্তার বিষয়!! গণিত কি কাজে লাগে? বাস্তবতার সাথে গণিতের সম্পর্ক কি?
গণিতের সূত্র পড়লাম, সুত্র মুখস্ত করলাম, সূত্র ব্যবহার করে গণিতের সমস্যার সমাধান করলাম শুধু এটাই কি গণিত?
সরল গণিতের সমাধান জটিল হয় কেন? সরল গণিত মূলত জটিল আকারে থাকে তাই এটির সমাধানের নিয়ম জটিল থেকে সরল আকারের হয়। এ কারণে সমাধান জটিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। সরল অংক আমাদের কি শিখায়? নির্দিষ্ট নিয়মে কোন কাজ আগে করতে হবে? কোনটির গুরুত্ব বেশি? কোন ধাপের পর কোন ধাপ তা শেখায়। আপনি জীবনের জটিলতার একই সাথে পাঁচটি সমস্যায় পড়লেন। আপনার সমস্যার সমাধান আপনাকেই করতে হবে। সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হবে। কোন সমস্যার সমাধান আগে করবেন, কোনটি পরে করবেন ছাত্র জীবনে শেখা সরল অংক করতে গিয়ে শেখা ধাপসমূহ আপনাকে বাস্তব জীবনে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে দিবে।সমস্যা আসা মানেই ভেঙে পড়া নয়। স্থির ভাবে মাটির কামড়িয়ে সমস্যার পিছনে লেগে থেকে হাজারো সমস্যার অগ্রাধিকার সমাধান একে একে মুক্তির পথে দেখাবে। সকল সমস্যা যেমন একই নয়, তেমনি সকল সমস্যার সমাধান একই রকম নয়। সকল সমস্যার গুরুত্ব ও সমান নয়। তাই সমস্যার সমাধানে সরল অংকের পারদর্শিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।কারন সরল অংকে রয়েছে তিনটি বন্ধনীর কাজ।প্রথমেই প্রথম বন্ধনী,এরপর দ্বিতীয় বন্ধনী এবং শেষে তৃতীয় বন্ধনীর কাজ।বন্ধনীর ভিতরে আবার এর,ভাগ, গুন,যোগ ও বিয়োগের কাজ।বন্ধনীর কাজ শেষ হওয়ার পরে পুনরায় এর,ভাগ, গুন,যোগ ও বিয়োগের কাজ।সকল প্রক্রিয়া চিহ্নের ব্যবহার শেষে মান আসবে একবারে সরল।কোন সংখ্যার পাওয়ার যতো বেশি তার মান ততো বেশি।তাই পাওয়ারের গুরুত্ব বোঝা যায় সহজে।সেই পাওয়ারকে নিচে নামিয়ে সহগ বানাতে লগারিদমের ব্যবহার রয়েছে।আবার সহগকেও পাওয়ার বানানো যায় লগারিদম এর মাধ্যমে।সহগ একসাথে চলতে শেখায়।অজানা চলকের মান বের করার মাধ্যমে তার প্রকৃতি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।অনুপাতের মাধ্যমে যার যার লেবেল অনুযায়ী ব্যালেন্স করতে শেখায়।গণিত আপনাকে দূরদর্শিতা শেখায়। দুটি পাশাপাশি গণিতের সমস্যা যেমন এক নয় তার সমাধানও একই নয়। অংক সমাধানে শুধু পূর্বের অংকের চিন্তা করলে হবে না। জীবনের যে কোন পর্যায়ে শেখা একটা ধাপও কাজে লাগতে পারে । তাই গণিত আপনাকে বহুমুখী চিন্তা শেখায়। গণিতে রয়েছে গভীর চিন্তা, পূর্বজ্ঞানের ব্যবহার, সহজে সমাধানের সুচতুরতা। একই অংক ভিন্ন ভিন্ন নিয়মে সমাধান করা যায়। যুক্তিগত যে কোন অংক সঠিক।সকল গণিত একই সূত্রে সমাধান হবে না। তবে একই গণিতে বহু সূত্রের ব্যবহার রয়েছে। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব স্বকীয়তা থাকে,থাকে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।একই অনুশীলনীর প্রত্যেক অংকের কিছু না কিছু মৌলিক পার্থক্য থাকেই। তাই গণিত শুধু সুত্র ব্যবহার করে সমাধান নয়। বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গণিতের অন্যান্য বিভাগ নিয়ে আলোচনা করবো অন্য এক সময়ে।গণিতকে ভালোবাসুন,গণিতের আলোকে বাস্তব সমস্যার সমাধান করুন।
আব্দুল্লাহ আল মামুন রনী
শিক্ষক(গণিত),
খরসূতি চন্দ্রকিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়
ও প্রতিনিধি,বোয়ালমারী (ফরিদপুর)
০১৭১৩৯১২০৪৮