
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:পটুয়াখালীর দুমকী – বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বরিশালের আরসি ফুড ও পটুয়াখালীর ডিসি ফুডের আর্শীবাদ পুষ্ট কমল গোপাল দে’র লাগাম টানার খাদ্য বিভাগে কেউ নেই। সুত্রে জানা গেছে, সাড়ে ৩ বছর ধরে বাউফল, দুমকী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে।এর মধ্যে মাঝ খানে তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলায় উক্ত পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে দুমকী উপজেলায় একই পদে অতিরিক্ত খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করে চলছেন তিনি।এসকল উপজেলায় তিনি দায়িত্ব পালন কালে এমন কোনও অনিয়ম- দূর্নীতি নেই যা তিনি করেন নি।এ জন্য সে হয়েছেন বার বার পত্র- পত্রিকার শিরোনাম ও মাল্টিমিডিয়ায় প্রচার হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ। এতে বিন্দু মাত্র নেই তাঁর অনুশোচনা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানিয়েছেন কমল গোপাল দে’র হাজারো কথার মধ্যে এক কথা হলো তাঁর অর্থ লাগবে এটাই শেষ কথা বলে জানা যায়। সুত্রে আরও জানা গেছে, সাবেক সরকার ৮ মাস ক্ষমতায় নেই তবুও তাঁর নাম বাউফলে জেলেদের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর ও ঈদ ভিজিএফ’রবিতরণ করা চালের বস্তায় দেখা গেছে। এতে সাবেক সরকার শেখ হাসিনার নামাঙ্কিত বস্তায় চাল বিতরণ করায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বাউফল উপজেলা জুড়ে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দেখা গেছে দুমকী উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নে ঈদ ভিজিএফ’র চাল বিতরণ কালে ৩০ কেজির কয়েক টি বস্তায়‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ শ্লোগান লেখা রয়েছে ।বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ক সাংবাদিকদের বলেন, ফ্যাসিষ্ট হাসিনা সরকার পতনের প্রায় ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও বহাল তবিয়তে আছেন তাদের দোসররা।চালের বস্তায় এখনও শেখ হাসিনার নাম থাকা সেই প্রমাণ বহন করে। বিষয়টির দায় খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো ভাবেই এড়াতে পারেন না। আমি সরকারের উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী করছি।সূত্রে আরও জানা যায়, বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে কে স্প্রে দিয়ে প্রতিটি বস্তায় শেখ হাসিনার নাম মুছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও সে সেই নির্দেশ পালন করেননি। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা রেখেই তিনি উক্ত চালের বস্তা বিতরণ অব্যহত রেখেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে ২৮ মার্চ শুক্রবার বন্ধের দিন বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুরের খাদ্য বান্ধব কর্মসূচীর ডিলার জহিরুল ইসলাম ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণ করেন। আর এ চাল বিতরণ কালে উক্ত ডিলার কারচুপি করেন বলে জানা যায়। এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত স্হানের কয়েকজন এ ডিলার কে বন্ধের দিন চাল বিতরণ ও অনিয়ম করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি তাদের বলেন তাকে বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে ও বগা গোডাউনের স্টাফ এবং কমল গোপাল দে’র মৌখিক নির্দেশে গত এক মাস ধরে নিয়ম বহিভূর্ত বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিসে দায়িত্ব পালন করা সুন্দর রেজাউল। এমনকি এ ডিলার এর কাছ থেকে ডিউ প্রতি ৫০০ শত টাকা কমল গোপাল দে নিতে বললেও সুন্দ রেজাউল উক্ত ডিলার এর কাছ থেকে ১০০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয় জানতে বগা গোডাউনের স্টাফ ও বাউফল উপজেলা খাদ্য অফিসে নিয়ম বহিভূর্ত মৌখিক নির্দেশে দায়িত্ব পালন করা সুন্দর রেজাউল এর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, আমার আত্মীয় -স্বজনই তো সাংবাদিক, আবার আমি সাংবাদিক কে কি বক্তব্য দিব। উক্ত ব্যাপারে বাউফল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও দুমকী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা কমল গোপাল দে এর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, কত বার বক্তব্য দিব, আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আছে তাঁরা আমার বিষয় দেখবে। এ কথা বলে তিনি মুঠোফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এ বিষয় জানতে বাউফল ও দুমকী উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের মুঠোফোনে পৃথক ভাবে কয়েক বার কল দিলেও প্রতিবারই তাদের ফোন কল ব্যাস্ত পাওয়া যায়। এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। উক্ত বিষয় মুঠোফোনে পটুয়াখালী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ছুটিতে আছেন, বিষয় টি না ক্ষতিয়ে দেখে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না। এ জন্য তার বক্তব্য নেওয়া যায় নি।