
নির্বাচন মানেই ভোটারদের ভোট প্রদান। আর সেই ভোট প্রদানে অংশ গ্রহন করে থাকেন দেশের জনগন। নির্বাচনে দেশের জনগন যদি ভোট প্রদানে উৎসাহিত হয়,তাহলে সে নির্বাচনে কোন দল এল আর কোন দল এলনা, তা দেখার বিষয় নয়। নির্বাচন হোক এটাই জনগন চায়। আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের মানুষের মাঝে জনগণের মাঝে আনন্দ- উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। এ কারণেই আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফল হবে।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এসময় তার সঙ্গে কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রাশেদুল কাওসার ভূইয়া জীবন, পৌর মেয়র এম জি হাক্কানিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মন্ত্রী কসবা শহরের মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গণে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় অংশ নেন। এতে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা যোগ
এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা পরিষদ ভবনে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সেই মনোনয়নপত্রের একটি অনুলিপি বিকালে জমাদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যেভাবে নির্বাচন নিয়ে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করছে তা নির্বাচনকে সফল করবে। জনগণ এবার স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে ভোটদানে অংশগ্রহণ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন তখনই হয়, যখন নির্বচনে জনগণ অংশ নেয়। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি যখন নির্বাচন করেছিল, সে নির্বাচনে দেশের জনগন ভোট দিতে যায়নী। যার ফলে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া রার্ষ্ট্রীয় ক্ষমতা ছেড়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এবারের আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। নির্বাচনে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে পারবে।’
এ সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।
নির্বাচনে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বিগত ১০ বছর ধরে কসবা-আখাউড়ার মানুষের জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করে গেছি।
স্কুল-কলেজ,রাস্তা-ঘাট,বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সহ এলাকার নানাবিধ উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। সে কারনে অত্র আসনের জনগণ আমার সঙ্গে আছে। আমি আশাবাদী আবারও জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে তাদের
সেবা করার পাশাপাশি অন্যান্য অসমাপ্ত উন্নয়নমুলক কাজ করার সুযোগ দেবে।’
আখাউড়ায় মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের পিপি মাহাবুবুল আলম খোকন ও মোগড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন।
মনোনয়ন পত্র জমাদান শেষে মন্ত্রী আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়ার পথ বন্ধ করে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন।
জনসভার ভাষনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি আচরণবিধি তৈরি করেছেন। নির্বাচন করতে গেলে আচরণবিধি মেনে চলতে হবে। এই আচরণবিধিতে বলা আছে আমি আগামী ১৮ তারিখের আগে ভোট চাইতে পারব না। এটা নির্বাচন কমিশন বলে গেছে।আমি অত্র এলাকার সন্তান। সন্তান কি বাপ-মার কাছে ভোট চাইতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, আমার মধ্যে আর আপনাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আপনাদের কাছে আমি চিরকাল ঋণী। সন্তান কি বাপ-মার কাছে ভোট চাইতে হয়। আমি বিশ্বাস করি, আমার মধ্যে আর আপনাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আপনাদের কাছে আমি চিরকাল ঋণী। আপনাদের ভালোবাসার ঋণ আমাকে শোধ করতে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলেছে ডিসেম্বরের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ভোট চাইতে পারব না। আমি জানুয়ারির ৬ তারিখ পর্যন্ত ভোট চাইব না। কিন্তু আমি নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই, আমি ভোট পাব। বাপ-মার কাছে সন্তানের ভোট চাইতে হয় না।’
মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় রোডে আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে আখাউড়া থানা রোডে ফুল ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানান এলাকার জনগণ।