
মোঃ জয়নাল আবেদীন টুক্কু, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারীর বেশকয়েকটি স্থানে পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধঙ্গলি দেখিয়ে চলছে পাহাড় কাটার হিড়িক। এসব পাহাড়ের মাটি বিক্রির পাশাপাশি বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। পাহাড় কাটা ফলে দেশে অনিয়মিত বৃষ্টি পাতসহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে পরিবেশ।বিশেষ করে বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দু’পাশে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব। তবে পুলিশ এ-সব বিষয়ে দেখেও দেখের বান করে থাকে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানান রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের হাজির পাড়া যুবলীগের সাবেক সভাপতি গোলাম মওলার নেতৃত্বে চলছে এই পাহাড় কাটার মহোৎসব। তার রয়েছে নিজস্ব এস্কেভেটর ডেম্পার,ট্রাক। বাইশারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার কন্ট্রাক্ট নিয়ে বিভিন্ন স্থাপনায় মাটি বিক্রি করছেন পাহাড়কেখো এই গোলাম মওলা। যার ফলে বিপর্যয়ের মুখে পড়ে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য।
প্রতিনিয়ত রাত ১০টার পর ভোর পর্যন্ত পাহাড় কাটা চলে। মাটি সরবরাহের জন্য তৈরি করা হয়েছে সড়কও। জানা যায়, তুফান আলী পাড়া মূলত পাহাড় ধস প্রবণ এলাকা। সেখানে প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসের ঘটনায় প্রাণ হারায় অনেক মানুষ। তাছাড়া সেখানে মানুষজন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। এ পাহাড় কাটার ফলে আশপাশে বসতঘর পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদকর্মী আব্দুর রশিদ, হাবিবুর রহমান রনি জানান প্রতিদিন রাত ১০টার পর পাহাড় কাটা চলে। এস্কেভেটর শব্দে ঘুমাতে পারি না ওই সব এলাকার মানুষ। তাছাড়া পাহাড় কাটলে পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে তাই প্রশাসনের প্রতি পাহাড় কাটা বন্ধ করার দাবি জানান সচেতন মহল। এদিকে বিষয়টি স্বীকার করে এস্কেভেটর মালিক যুবলীগ নেতা গোলাম মওলা বলেন, ছোট এস্কেভেটর দিয়ে পাহাড় কাটা কন্ট্রাক্ট নিয়েছি। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও আমার কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি।
বাইশারী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে ম্যানেজ করে তদন্ত কেন্দ্রের গা ঘেঁষে বিশাল একটি পাহাড়। সেখানে রাত হলেই ছোট এস্কেভেটরের সাহায্যে কাটা হয় পাহাড়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় বাইশারী ইউনিয়নে ৫ন নং ওয়ার্ড লম্বাবিল মৃত্যু নাছির মোহাম্মদের ছেলে বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুব ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবদুল জব্বার সরকারি খাস বিশাল পাহাড় কেটে সাবাড় করতে জিজ্ঞেসা করলে তিনি জানান কবরস্থান করার জন্য তিনি পাহাড় কাটছেন।এছাড়াও হলুদ্যাশিয়া,তুফান আলী পাড়া,মধ্যম বাইশারীসহ একাধিক জায়গায় পাহাড় কাটার চিত্র দেখা গেছে।
ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম বলেন, বাইশারী সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করতে কয়েকজন পাহাড় খেকো অবৈধভাবে পাহাড় কাটছে। কয়েকজনকে আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি দিলে এ রকম অন্যায় কাজ থেকে সবাই বিরত থাকত।
এবিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী বলেন এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে।তবে ঘটনাস্থলে কোন ব্যাক্তি বা সরঞ্জাম না পাওয়ায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায় নি। তিনি আরও বলেন
উপজেলা সদর হতে দূরবর্তী হওয়ার কারণে পাহাড়খেকোরা পালিয়ে যায়।স্থানীয় হেড়ম্যনকে জমির মালিকানা সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরকে নিয়মিত মামলার ব্যবস্থা নিতে বলা হচ্ছে।বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম জানান বাইশারীতে পাহাড় কাটার খবর পেয়ে সরজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছেন। পাহাড় খেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বললেও এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এজন্য জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।