
রাজধানীর মিরপুরের রূপনগরে রাজনৈতিক বিরোধ ও ফুটপাতের দখলদারিত্ব নিয়ে যুবদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবদল কর্মী মো.শাহ আলম নিহত হয়েছেন। আজ সকালে মিরপুর ১১-এর ইসলামীয়া ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিবরণ:
২০ মার্চ রাত ১০:৩০ মিনিটের দিকে মিল্কভিটা মোড়ে তরমুজের ব্যবসা করছিলেন মো. শাহ আলম। এ সময় যুবদল নেতা মিল্টনের অনুসারী সাঈদ, জিলানী, মানিক, জুম্মান, শরীফ, আমিনুল, ইয়াছিন, সাগর, গনি সহ প্রায় ৩০-৪০ জন রায়হান নামে এক যুবদল কর্মীকে টেনে হেঁচড়ে রূপনগর থানার সামনে বস্তির ক্লাবে নেওয়ার চেষ্টা করে। শাহ আলম প্রতিবাদ করলে রায়হানকে ছেড়ে দিয়ে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শাহ আলমকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি এবং রড দিয়ে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং পরবর্তীতে ইসলামীয়া ব্যাংক হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান।
অবৈধ কার্যক্রম ও এলাকার অবস্থা:
স্থানীয়দের দাবি, রূপনগর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও অটোরিকশার অবৈধ সংযোগ, সড়ক ফুটপাত দখল এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছে। এসব নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
পুলিশের ভূমিকা:
রূপনগর থানার ওসি মোজাম্মেল হক দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে অনেক সময় ছোটখাটো সংঘাত বড় ধরনের সহিংসতায় রূপ নেয়। সুশীল সমাজের দাবি, পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না।
রাজনৈতিক বিরোধ:
নিহত শাহ আলম বিএনপি নেতা আমিনুলের অনুসারী ছিলেন, আর অভিযুক্তরা যুবদল নেতা মিল্টনের অনুসারী বলে দাবী করা হয়। তবে রূপনগর ও পল্লবী এলাকার বিভিন্ন বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, অভিযুক্তরা মিল্টনের অনুসারী নন, বরং আরমান সোহেলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী বলে পরিচিত।
মামলা ও আটক:
ঘটনার পর রূপনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সাগর,রুস্তম ও জিলানীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে,আরও একজনকে আটক করা হলেও সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নেতাদের প্রতিক্রিয়া:
পল্লবী থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার বলেন, “শাহ আলম আমাদের দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।” তিনি আরও জানান, “যারা এই হামলা চালিয়েছে, তারা যুবদল নেতা মিল্টনের অনুসারী।”
এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ফোনে বলেন, “রাজনীতি করি,অনেকেই মিছিল-মিটিংয়ে আসেন এবং চলে যান। সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব নয়। আমার কোনো নেতাকর্মী বা আত্মীয়স্বজন যদি সড়ক ফুটপাত দখল বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে সংযোগটি কেটে দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য:
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হুসাইন মাহমুদ বলেন, “এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।”
এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি:
এই হত্যাকাণ্ডের পর রূপনগর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। নিহত শাহ আলমের স্ত্রী ও দুই সন্তান বর্তমানে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
ডিআই/এসকে