
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর নির্ধারণ করে দেয়া সীমানার বাইরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে কেপিআইভূক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যে কোনো সময় গভীরতা সৃষ্টি হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সঙ্গে জেলা ও উপজেলার ছাত্রদল, বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীদের অংশীদার করে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলন করছেন।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর নুসরাত জাবীন স্বাক্ষরিত চিঠি সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের (এএফসিএল) মেঘনা নদীর ওয়াটার ইনটেক ও ডেসপাচের জেটি জেটি এলাকায় চর জেগে উঠেছে। গত ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সেখান থেকে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ অনুযায়ী বালু উত্তোলনের সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকা-সিলেট করিডোর (ছয়লেন) মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বিপুল পরিমান বালু চাহিদা রয়েছে। ১৫ অক্টোবর এএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএফসিএলের সামনে ওয়াটার ইনটেক ও ডেসপাচ জেটি এলাকায় মেঘনা নদীতে হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ অনুযায়ী বালু উত্তোলনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা-সিলেট করিডোর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস কামাল ইন্টারন্যাশনালকে অনুমতি দেয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মের্সাস কামাল ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে মেঘনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজ করছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান এবং জেলা ও উপজেলা ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় লোকজন জানান, মেঘনা নদীতে লাল নিশানা টানিয়ে সীমানাও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু বালু খেকুরা নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে মেঘনা নদীর মাঝখান থেকে ৯-১০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছেন। মেঘনার নদীর তীর ঘেঁষে আশুগঞ্জ অংশে এএফসিএল, মিডল্যান্ড ইস্ট পাওয়ার লিমিটেড ও মিডল্যান্ড পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড নামে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, গ্যাস ট্রান্সমিউশন কোম্পানি লিমিটেড, কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার অংশে সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএডিসির সার গুদাম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো অবস্থিত। অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর গতি পরিবর্তন হয়ে যে কোনো সময় সরকারিসহ কেপিআইভূক্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলো হুমকিতে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে অবস্থান করে দেখা গেছে, নদীর মাঝখান থেকে ৯-১০টি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। বালু উত্তোলনের চক্রের লোকজন সার্বক্ষণিক বালু উত্তোলন কাজ পাহাড়া দিচ্ছেন। ছবি তুলতে গেলেই তারা স্পীডবোটে তাড়া করেন।
ভৈরব বাজার যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ডিপোর ইনচার্জ মতিউর রহমান ও বিএডিসির সার গুদামের সহকারী পরিচালক শিপন চন্দ্র সরকার বলেন, অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনের ফলে আমাদের দুটি প্রতিষ্ঠান সমসময় ঝুঁকিতে থাকবে।
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, নির্ধারিত সীমানা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের সময় মানুষ নানা কথা বলে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাফে মোহাম্মদ বলেন, কাজ বন্ধ রাখার জন্য তাদেরকে বলা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, তাদেরকে ডেকে নির্ধারিত সীমানা থেকে বালু তোলার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে অভিযান চালিয়ে তাদের ড্রেজার জব্দ করা হবে।