
ঢাকা মহানগর বিএনপি উত্তর শাখার কমিটি বিলুপ্তির একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও এর সত্যতা এখনো নিশ্চিত নয়,তবে এটি যদি বাস্তব হয়,তাহলে রূপনগর ও পল্লবী এলাকার সাধারণ জনগণ এবং পদবঞ্চিত বিএনপি কর্মীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সংঘাত ও সংঘর্ষ:
রূপনগর ও পল্লবী এলাকায় প্রতিদিনই রাজনৈতিক কোন্দলের কারণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। গত রাতে দুয়ারীপাড়া মোড়ে ১ ও ২ নম্বর রোডে যুবদল নেতা মিল্টন সমর্থক সোহেল ও বিএনপি নেতা আমিনুল সমর্থকদের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিশাল গোলমাল হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১:৩০ মিনিটে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
অবৈধ সংযোগ ও চাঁদাবাজি:
দুয়ারীপাড়া এলাকায় অবৈধ গ্যাস,বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে বিদেশ ফেরত সুমন ও আল আমিন। খ ব্লক ও ক ব্লকে নজু, সালাউদ্দিন এবং ফয়েজের নেতৃত্বে চলছে অবৈধ অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ।
ফয়েজের একক নিয়ন্ত্রণে সড়কের মাছ বাজারে দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি লাইটের জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। বৈধ সংযোগ রাত ১১টার পর বন্ধ করে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সরাসরি তার লাগিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নেওয়া হয়।
মাদক, চুরি ও হুন্ডা বাহিনীর তাণ্ডব:
এলাকায় মাদক ব্যবসা,চুরি এবং হুন্ডা বাহিনীর তাণ্ডব যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করছে সাহাদাত,রাজু,সোহেল, জালাল ভাই আলামিন সহ আরও অনেকে। তাদের তাণ্ডবে সাধারণ মানুষ রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
প্রশাসনের গাফলতি:
অভিযোগ রয়েছে যে,রুপনগর থানার ওসি মোকাম্মেল হক এইসব অপরাধ কার্যকলাপের বিষয়ে সচেতন থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না। অপরাধীরা প্রশাসনের নাকের ডগায় থেকেও নিরাপদে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পল্লবী থানার ওসি অপরাধ কর্মকাণ্ড রুখে দিতে থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত কালও বাউনিয়াবাদ সড়ক দখল করা অবৈধ মেলায় অভিযান চালাতে দেখা গেছে।
রূপনগর ও পল্লবীর এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোকে অপরাধীদের আশ্রয় না দিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায়, সাধারণ মানুষের জীবনে এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠবে।
ডিআই/এসকে