
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে তিনজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে৷ এদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসিব (৩২) নামে এক অটোরিকশা চালকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার ভোর সাড়ে চারটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাসিব চনপাড়া এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,এলাকায় মাদক ব্যবসা,চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবদলের শামীম ও বিএনপি নেতা দীপু ভূইয়ার অনুসারি স্বেচ্ছাসেবক দলের রব্বানীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে আজ ভোর সাড়ে চারটার দিকে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।
এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদলের কর্মী হাসিব নিহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৩০ জন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে গুলিবিদ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় চনপাড়া এলাকাজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।
এদিকে ঘটনার পর চনপাড়া বস্তিতে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান করছে যৌথবাহিনী। সেখানে বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
নিহতর ভাই বাবু জানান,হাবিব পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। রাতে চনপাড়া এলাকা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মাদক কারবারিদের দুই গ্রুপের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে যায় সে। পরে ওইখানে তার একটি গুলি এসে গায়ে লাগে। খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে ভর্তি দেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরের দিকে মৃত্যু হয় তার।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম বলেন, ‘আমি এলাকায় নেই। শুনেছি রবিন নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা নিয়ে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী রব্বানীর লোকজন আমার যুবদল কর্মী হাসিবকে গুলি করে। এতে সে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ঘটনায় তার পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেবে।’ স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা শুনেছি। রব্বানী আমার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক দল করে। দোষীদের ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারায়ণগঞ্জ ‘গ’ সার্কেলের এএসপি মেহেদী হাসান বলেন, চনপাড়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে শামীম ও রব্বানী দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় অভিযান চলছে। দোষী ব্যক্তি যেই হোক না কেন কেউ ছাড় পাবে না