
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্রাবাসে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে দুই সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় ওই সাংবাদিকদের রুমে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন,দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ খান ও প্রবাস টাইমসের প্রতিনিধি রনি মিয়া।
ভুক্তভোগী সাংবাদিকরা জানান,শুক্রবার রাত ১০টার দিকে অজানা নাম্বার থেকে কল দিয়ে তাদের ছাত্রাবাসে যেতে বলা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা দেখতে পান তাদের ২০৯ নম্বর রুমের সব জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এসময় ওই স্থানে উপস্থিত ছাত্রদের কাছে এর কারণ জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থী রুহুল আমিনসহ কিছু অজ্ঞাত ব্যক্তি ধাক্কা তাদের গায়ে হাত তোলেন এবং ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আব্দুল্লাহ খান জানান,তিনি কবি নজরুল কলেজের দর্শন বিভাগের ছাত্র এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার রুমমেট রনি মিয়াকে অজানা নাম্বার থেকে কল দিয়ে ছাত্রাবাসে আমাদের রুমের সামনে আসতে বলা হয়। এসেই দেখি আমাদের জিনিসপত্র বাইরে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি কলেজ প্রশাসনের অনুমতিক্রমে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে অবস্থান করছি। আমার যদি কোনো অপরাধ থাকে তবে কলেজ প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। তবে যারা আমার রুমে তালা ভেঙে জিনিসপত্র বাইরে ফেলেছে এবং আমার অ্যাকশন ক্যামেরা ও প্রায় ত্রিশ হাজার টাকা লুট করেছে,তাদের বিরুদ্ধে আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।’
আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক রনি মিয়া বলেন,’যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে,তারা সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে উদ্দেশ্যপ্রণীতভাবে হামলা ও লুটপাট করেছে। কিছুদিন ধরে হলের গ্রুপ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক পোস্ট দেওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনার নেতৃত্বে ছিল রুহুল আমিন,মুজাহিদ,আলভী এবং আরও কিছু ব্যক্তি। তারা আমাদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং নানা ধরনের হুমকি প্রদান করেছে। যদি আমাদের কোনো ভুল থাকে,তবে সেটা কলেজ প্রশাসন দেখবে, কারণ তারা হল থেকে আমাদের বের করে দেওয়ার দায়িত্ব রাখে না।’
এ বিষয়ে কবি নজরুল কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন,’বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে,তবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ শিক্ষার্থীর পরিচয়ে কেউ হলের দায়িত্ব নিতে পারে না। ছাত্রাবাসে কে থাকবে, সেটা কলেজ প্রশাসন নির্ধারণ করবে। কোনো শিক্ষার্থী আরেক শিক্ষার্থীকে বের করে দিতে পারে না। অভিযোগ থাকলে তা প্রক্রিয়াগতভাবে তদন্ত হবে।’
ডিআই/এসকে