
রাজধানীর মোহাম্মদপুর লালমাটিয়ায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যাসহ পাঁচ মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় সরকারি কাজে বাঁধা ও সরকারি কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও রায়ের বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সহিদুল ওসমান মাসুম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। বাদী আসামিদের বাদী আহত হন।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি আলী ইফতেখার হাসান।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এজাহারে একজনের নাম উল্লেখ করে এবং বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত হিসেবে আসামি করা হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
মামলার বাদী অভিযোগ করেন, রায়ের বাজার পুলিশ ফাঁড়ির জিডি মূলে মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় ছিনতাই প্রতিরোধ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং ওয়ারেন্ট তামিল ডিউটি করছিলাম। বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে গোপন সূত্রে জানতে পারি মোহাম্মদপুর থানার একটি মামলার এজাহারনামীয় ৩৯ নম্বর আসামি লালমাটিয়া এলাকার এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে অবস্থান করছে।
বিষয়টি উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানালে তাদের নির্দেশে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ এভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে থেকে আসামি আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য গোলাম মোস্তফাকে হেফাজতে নেই।
এই সময়ে আসামির ডাক চিৎকারে মূহুর্তের মধ্যেই স্কুলটির নিরাপত্তা কর্মী ও কর্মকর্তারা পুলিশকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে মানবঢাল তৈরি করে। তখন আসামির নির্দেশে পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করে। পাশাপাশি আমাদেরকে টানা হেঁচড়া করে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মারতে থাকে। এই সময়ে আমাদের হেফাজত থেকে আসামি পালিয়ে যেতে থাকলে আমিসহ সঙ্গীয় অফিসার ফোর্স তাকে আটক করার চেষ্টা করলে কিলঘুষি মারতে থাকে।
আসামিদের মারপিটের সময়ে গোলাম মোস্তফাকে ছিনিয়ে নিয়ে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। আসামীদের মারপিটের বাদী আহত হন। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জানা গেছে, ৫ মামলার আসামী ও আওয়ামী লীগের সাংসদ জাহাঙ্গীর কবির নানকে সহযোগী গোলাম মোস্তফা ও হাফিজুর রহমান লিকুর অন্যতম ক্যাশিয়ার এবং বৈষম্যবিরোধী একাধিক মামলার আরেক আসামী আনিসুর রহমান সোহাগের ঘনিষ্ঠ। এই মোস্তফার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পাঁচটি মামলা রয়েছে।
মামলাগুলো হলো- মোহাম্মদপুর থানার মামলা নম্বর-৬৯, রামপুরা থানার মামলা নম্বর-১৮, বাড্ডা থানার মামলা নম্বর-১৬, ক্যান্টমেন্ট থানার মামলা নম্বর-১৬ ও চকবাজার থানার মামলা নম্বর-৫৬।
ডিআই/এসকে