সাবেক প্রাণী সম্পদ মন্ত্রী আবদুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জের সাবেক গডফাদার শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর আওয়ামী লীগ নেতা সামসুদ্দোহা শিমু এখন পুলিশের খাতায় মোস্ট ওয়ান্টেড। তার খোঁজে বিশেষ টিম গঠন করে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করেছে ডিএমপি। জানা গেছে, গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল পলাতক আসামি ও পুলিশের খাতায় অপরাধী আওয়ামী লীগ নেতা সামসুদ্দোহা শিমু কোন কোন আত্মীয়স্বজন, বন্ধু বান্ধব ও শুভাকাঙ্খীর বাসায় লুকিয়ে থাকতে পারে তার তালিকা তৈরির কাজ করছে।
সার্বিক বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাদ আলী বলেছেন, পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান চালানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। তিনি বলেন, পুলিশ যদি আসামি ধরতে গিয়ে আসামির পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হয় তখন বাহিনীর পক্ষ থেকেই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ভাটারা থানাধীন সাইদনগর হাউজিং এলাকায় আসামি আওয়ামী লীগের শিমুকে গ্রেফতারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমরা তাঁকে গ্রেফতারে সক্ষম হবো এটাই শেষ কথা।
প্রসঙ্গত. রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় সামসুদ্দোহা শিমুর নামে হত্যা চেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলার আসামি হিসেবেই পুলিশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে গ্রেফতার করতে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন তার বাড়িতে গত ৮ মার্চ গভীর রাতে অভিযান চালায়। কিন্তু অভিযানের এক পর্যায়ে বাতি নিভিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় শিমু । নারায়ণগঞ্জের সাবেক গডফাদার শামীম ওসমানের বন্ধু খ্যাত শিমু ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। সে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বাসাবো থানা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ও ছিল।
কারাগারে আটক সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার আত্মীয় আওয়ামী লীগ নেতা শিমুর বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রলীগসহ আন্দোলন দমনকারী অন্যদের মদদদান ও অর্থ্যায়নের অভিযোগ আছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী ইফতেখার হাসান।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান আলাপকালে বলেছেন, আসামি খোজার পদ্ধতি অনুযায়ী তারা সম্ভাব্য সকল ধরনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। পলাতক আসামি শিমুর মেয়েদের শ্বশুর বাড়ি, ভাগ্নে, ভাগ্নি, ভাতিজা-ভতিজি, ভাই সহ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের তালিকা, ঠিকানা তারা প্রস্তুত করে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর কাজ শুরু করেছেন।
জানা গেছে, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা শিমু যেন বিদেশে পালাতে না পারে সেজন্য বিমানবন্দরে ও স্থল সীমান্ত গুলোতে তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া হয়েছে।
আরও জানা গেছে, ডিএমপির গোয়েন্দা ইউনিট পলাতক আওয়ামীলীগ নেতা শিমু শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন এর কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন সরবরাহকারীর থেকে অর্থসহ কি কি অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে তা নিয়ে কাজ করছে। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী চাকরিতে থেকে কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা রাজনৈতিক দলের পদে থাকতে পারেন না । কিন্তু শিমু চাকরিতে থেকে কিভাবে বাসাবো থানা ও আলফাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের পদে ছিলেন সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে । এই ক্ষেত্রে আইনের বাত্যয় হয়ে থাকলে মামলাসহ আরও বেবস্থা হবে বলে জানান ডিএমপির উপ কমিশনার (মিডিয়া) তালেবুর রহমান।
ডিআই/এসকে