
ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইলে জমি সংক্রান্ত জেরে এক নিরীহ কৃষককে হত্যার চেষ্টার দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রুমন মিয়া ও ওয়াসিম মিয়া জামিনে এসে মামলার বাদী সহ ওই কৃষককে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। শুধু তাই নয়, মামলার
আরেক আসামি মো. জুলহাস মিয়া একই ব্যক্তিকে হত্যার চেষ্টায় পাচঁ বছরের সশ্রম কারাদন্ডে জেল হাজত বাস করছে। এরই ক্ষোভে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা জামিনে এসে ও তাদের পরিবারের লোকজন মামলার বাদী শামছুল হক ও ভোক্তভোগীর পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি সহ কৃষি জমিতে প্রবেশে বাধা প্রদান করে যাচ্ছে। এমন ঘটনাটি ঘটেছে নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও ইউনিয়নের পুরহরি গ্রামে। বর্তমানে নিরীহ কৃষক জালাল উদ্দিন আসামিদের ভয়ে তাঁর নিজ কৃষি জমিতে প্রবেশ করতে পারছে না। এমনকি বোরো আবাদী জমিতে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ফলে বোরো আবাদকৃত ৮০ শতাংশ জমি
হুমকির মুখে রয়েছে, পাশাপাশি সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ভয়ে ভোক্তভোগী পরিবার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।সরজমিন জানাগেছে, জালাল উদ্দিন পুরহরি গ্রামের মৃত আ: হেকিমের পুত্র। তাঁর আপন ভাই আ: ছালাম ও আবুল কালাম সহ তাদের সন্তানরাই (ভাতিজা) হচ্ছে প্রতিপক্ষ। জমি সংক্রান্ত বিরোধে ২০২০ সনে প্রতিপক্ষ আ: ছালামের পুত্র জুলহাস, রুমন ও আবুল কালামের পুত্র ওয়াসিম সহ তাঁর ভাইরা তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে এ ঘটনায় গুরুতর আহত জালাল উদ্দিনের স্ত্রীর বড় ভাই (সমন্ধি) শামছুল হক মামলা দায়ের করলে মামলার রায়ে প্রতিপক্ষের অনেক লোকজন সাজাপ্রাপ্ত হয়। কিন্তু এর মধ্যে ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি ওয়াসিম ও রুমন মিয়া জামিনে এসে বাদী জালাল উদ্দিনের কৃষি জমিতে প্রবেশে বাধা নিষেধ করে এবং প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে প্রতিবেশী সেচ মেশিন চালক হাবিবুর রহমান হাবি বলেন, জালাল উদ্দিনের ক্ষেতে পানি দিতে গেলে বাধা প্রদান করছে আসামিরা। ফলে পানি দিতে পারছি না। এছাড়া সিরাজুল ইসলাম সহ আরও অনেকে উক্ত ঘটনার সত্যতা শিকার করে বলেন, তাদের ভাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত কলহ চলে আসছে। ভোক্তভোগী কৃষক জালাল উদ্দিন বলেন, আমাকে মেরে ফেলার জন্য তারা কোপ দিয়ে আমার মাথায় ২৮টা সেলাই লাগাইছে। এখন তারা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমি এর বিচার চাই। মামলার বাদী শামছুল হক তাঁর নিরাপত্তা চেয়ে উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের নিকট বিচার প্রার্থনা করেন। এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ আহম্মেদ বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।