
নানা অনিয়মের অভিযোগে ফরিদপুরে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষকে বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বার ধর্মঘট করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৯ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক তালা লাগিয়ে ফটকের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন একাডেমির শিক্ষক সহ কর্মচারী বৃন্দ।
এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রিন্সিপাল প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলামকে অপসারণের দাবিতে সরকারি গেজেষ্ট, প্রজ্ঞাপন প্রকাশ এবং আইএমটি ফরিদপুর মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর উচ্চতর ডিগ্রিধারী, সুদক্ষ,যোগ্য শিক্ষার্থীবান্ধব,প্রিন্সিপাল নিয়োগের দাবিতে ধর্মঘাট করেন।
একাডেমির শিক্ষকরা সহ শিক্ষার্থীরা
অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামে নানান ধরনের দুর্নীতি অপকর্ম তুলে ধরে বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক পরীক্ষার ফি নির্ধারণ করে অতিরিক্ত অর্থ নেন, সেইপ প্রজেক্টের অর্থ আত্মসাত, ভুয়া ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচারণ করেন। প্রতিবাদ করলে হয়রানি করা হয় শিক্ষার্থীদের। বর্তমানে চার বছর মেয়াদী মেরিন ও শিপ বিল্ডার্স কোর্সে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
তাঁরা আরও বলেন, সামনে তাঁদের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা। জেনারেটর নষ্ট হয়ে আছে। কয়েকদিন আগে জেনারেটর ঠিক করার জন্য ৪০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে, কিন্তু জেনারেটর ঠিক হয়নি। এই টাকাও আত্মসাৎ করেছেন অধ্যক্ষ। এছাড়াও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য যে বরাদ্দ দেয়া হয় তা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।
জানাযায় (২২ নভেম্বর) অধ্যক্ষ মোঃ সিরাজুল ইসলামকে একাডেমির শিক্ষার্থীরা একাডিমেতে অবরুদ্ধ করে রাখেন, খবর পেয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সালাউদ্দিন ও জেলা ছাত্রলীগের নেতারা। পরে অবরুদ্ধ অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে পুলিশ।এই বিষয়ে অধ্যক্ষ মোঃ সিরাজুল ইসলামের সাথে মুঠো ফোনে তার বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি মোবাইলে কোন বক্তব্য দিতে পারবেনা বলে জানান।
ফরিদপুর শহরতলীর চুনাঘাটা এলাকায় ২০১৪ সালে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ৯ম ব্যাচ চলছে।