
পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গত দুদিনে সাত টি অবৈধ লাইসেন্সবিহীন ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৭ মার্চ) দুপুরে বোদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ম্যাজিস্ট্রেট এসএম ফুয়াদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ইটভাটাগুলো হলো সাতখামার এলাকার মেসার্স এমএআর ব্রিকস, মেসার্স এএ ব্রিকস এবং লক্ষ্মীদ্বার এলাকার কেএমআর ব্রিকস।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ভ্রাম্যমাণ আদালত চারটি ইটভাটার চুল্লি নিভিয়ে দেওয়াসহ চুলা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
এসব অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর পঞ্চগড়ের সহকারী পরিচালক ইউসুফ আলী সহ জেলা,-উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সম্প্রতি উচ্চ আদালত সারা দেশের সব অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে নির্দেশ দিয়েছেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করে আগামী ১৭ মার্চ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
বোদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম ফুয়াদ বলেন, অবৈধ, পরিবেশগত লাইসেন্স না থাকা এবং প্রয়োজনীয় শর্ত না মেনে অবৈধভাবে এসব ভাটা ইট উৎপাদন করছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার চারটি ইটভাটার চিমনির আগুন নিভিয়ে এবং ভেঙে দিয়ে কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি মাটির ওপরের অংশ তুলে নেওয়ায় জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আবারও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। কোনোভাবেই অবৈধ ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না। যারা জোর করে ইটভাটা চালু রাখার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) চারটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ভাঙচুর ও বন্ধ করার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি।
পরে সাত দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাসহ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা।