
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি-দখলদারির অভিযোগ আবুল হাসনাত অনু নামের এক যুবদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত অনু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সাবেক সদস্য,খিলগাঁও থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও একই এলাকার যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী।
শুক্রবার দুপুরে খিলগাঁওয়ের সি-ব্লক থেকে খিলগাঁও থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এদিন সন্ধ্যায় খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো.দাউদ হোসেন গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান,খিলগাঁও থানায় দায়েরকৃত চাঁদাবাজির মামলায় এদিন দুপুরে আবুল হাসনাত অনুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ওসি দাউদ হোসেন আরও বলেন,চাঁদাবাজ ও দখলদাররা যে দলেরই হোক না কেন,কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মধ্যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর খিলগাঁও এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে দখলদারি ও চাঁদাবাজিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন আবুল হাসনাত অনু। ৫ আগস্টের পর নির্মাণাধীন খিলগাঁও কমিউনিটি সেন্টার দখলসহ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির মাধ্যমে লিটন মাঝি নামক এক ব্যবসায়ীকে ছাত্র আন্দোলনের মামলায় ফাঁসিয়ে তার কাছ থেকে ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্রাইভেট কার বাগিয়ে নেন তিনি। এছাড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ বাজারে চাঁদাবাজি,ময়লার টাকা আদায়সহ সংশ্লিষ্ট না হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন লোকজনকে মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে শুক্রবার খিলগাঁও চৌরাস্তা জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে রাজনৈতিক পরিচয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার কথা জানান সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন,সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ নির্মূলে পুলিশকে আরও কঠোর হতে হবে। বিএনপি এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এ দলে চাঁদাবাজ দখলবাজের অবস্থান নেই।
মির্জা আব্বাস বলেন,অনেকে ভুয়া পরিচয় দিয়ে, বিএনপি নেতা দাবি করে অনৈতিক কাজ করছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই অপরাধী যেই হোক তার কোনো ছাড় নেই। বরং পুলিশ যদি কারও অনুরোধে কোনো চাঁদাবাজকে ছেড়ে দেয় আমি সে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি প্রশাসনের উচ্চ মহলে সুপারিশ করবো।
ডিআই/এসকে