
কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় রায়পুর মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রটি বেহালদশায় পরিনত হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে রায়পুরে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি( হ্যাচারি) দীর্ঘদিন ধরে ৮৪টি পদের মধ্যে৬০টি পদ শূন্যে রয়েছে। রেনু পোনা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সারাদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় প্রয়োজনীয় লোকবল ও বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্ত্বেও বিগত বছরগুলোতে কেন্দ্রটি সরকারি লক্ষ্যমাত্র অর্জন করে আসছে।
১৯৮২ সালে ৫৪ একর জায়গা জুড়ে এই মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়। বর্তমানে এখানে ৭৫টি পুকুর রয়েছে। এখানে ৮৪ টি পদে লোকবল থাকার কথা থাকলেও চলতি মাসে নতুন ৯ জন যোগদান সহ ২৪ জন রয়েছে। বাকি পদগুলো দীর্ঘদিন ধরেই খালি রয়েছে। এরমধ্যে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা দশ জনের জায়গায় রয়েছেন ৪ জন। ৬ জনের জায়গায় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নেই একজনও। দ্বিতীয় শ্রেণীর ৪জন কর্মকর্তার মধ্যে নেই একজনও। তৃতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা ৪১ জনের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৮ জন। যার মধ্যে হিসাব রক্ষক, ক্যাশিয়ার, গুদাম রক্ষক, দক্ষ ফিসারম্যান এর মত গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়াও চতুর্থ শ্রেণীর ২৯ জনের মধ্যে রয়েছে মাত্র ১২ জন।
সরজমিনে দেখা যায়, লোকবল সংকটে প্রতিষ্ঠানটির ল্যাবরেটরী বন্ধ রয়েছে অচলাবস্থা কেন্দ্রের আবাসিক ভবন গুলোর। যা বসবাসের একদম অনুপযোগী। একই অবস্থা কেন্দ্রের ডরমিটরি ভবনেরও। কেন্দ্রটির এক পাশের সীমানা দেয়াল ধসে পড়ার উপক্রম প্রায়। এছাড়াও নেই ৭৫ টি পুকুরে সেচ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত পানির পাম্প। বড়সড় জেনারেটরটি নষ্ট থাকায় ছোট একটি জেনারেটর দিয়েই চলছে বিদ্যুৎ বিহীন আপদকালিন সময়৷ তাছাড়া পুরনো যন্ত্রাংশ মেরামতের মধ্য দিয়ে কোনরকম চলছে হ্যাচারি কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৪ লাখ ৩ হাজার দুইশত টাকা। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত সরকারি কোষাগারে জমা পড়েছে ২৮ লক্ষ ৫৪ হাজার ২ শত ৮০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী বলেন, লোকবল কম থাকায় আমাদের তিনজনের কাজ একজনের করা লাগতেছে। এতে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের প্রচুর হিমশিম খেতে হয়।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক এস এম খালেকুজ্জামান বলেন, চলতি মাসে আমরা নতুন নয়জন পেয়েছি। আবারো সার্কুলার দেয়ার কথা রয়েছে । আশা করি শীঘ্রই লোকবল সংকট দূর হবে।