
নাঈম হোসেন রায়পুর,স্টাফ রিপোর্টার: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা চরবংশী অজপাড়া গাঁয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে রায়পুর উপজেলার সুনাম অর্জন করেছে সিকদার কান্দি আদর্শ স্কুল।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ খালেদ বলেন, ২০১০ সালে চরাঞ্চলের শিশুদের মাঝে উন্নত শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে প্লে এবং নার্সারি শ্রেণী দিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বিজ্ঞান বিভাগ, ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ ও মানবিক বিভাগ নিয়ে বর্তমানে স্কুলটি এসএসসি শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হচ্ছে। স্কুলটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এখানে সহীহ্ভাবে নুরানী পদ্ধতিতে কোরআন শিক্ষা, নিয়মিত ইংলিশ স্পোকেন ক্লাস ও নিয়মিত সুন্দর হাতের লেখার ক্লাসের সুবিধা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বিগত বছরে বিভিন্ন পরীক্ষায় ৯২ টি A+ এবং ৪৮১ টি সরকারি / বেসরকারি বৃত্তি অর্জন করেছে। ২০১৫ সাল থেকে যতগুলো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি সবগুলো পরীক্ষায়ই রায়পুর -২ কেন্দ্রে শতভাগ পাস সহ সফলতা অর্জন করেছি। এছাড়াও ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার মুন্নি কুমিল্লা বোর্ডে ২৬ তম হয়েছে।
বর্তমানে ৫শত এর অধিক শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। ১৮ জন তরুণ এবং মেধাবী প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা তাদেরকে পাঠদান করাচ্ছেন। এস্কুলটি মূলত অজপাড়া গাঁয়ে এর চারপাশে মাধ্যমিক লেভেলের অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। প্রতিষ্ঠাতা ফাউন্ডারদের আর্থিক সহযোগিতায় স্কুলটি পরিচালিত হচ্ছে, তারা গত ১৪ বছরে কেউ এক টাকাও স্কুল থেকে নেননি বরং প্রতি বছরই বিনাস্বার্থে স্কুলের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করে আসছেন। আমরা আশা করি খুব শীঘ্র স্কুলটি উপজেলার গণ্ডি পেরিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার একটা অন্যতম স্কুলে উপনীত হবে। স্কুলে বর্তমানে যে পরিমাণে শিক্ষার্থী রয়েছে তা এই ভবনে সংকুলান হচ্ছে না। ভবনটি চারতলার ফাউন্ডেশন করা হলেও এখন পর্যন্ত ভালো করে একতলার কাজটিই কম্পিলিট করতে পারনি। আর্থিক সংকটের কারণে স্কুলের ভবনের দোতলার কাজ এবং স্কুলটি আধুনিক ও আরও স্মার্ট স্কুল করতে যেসকল কাজগুলো করা দরকার যেমন মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, বিজ্ঞানাগার সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনেক কিছু চালু করতে পারছি না। যদি এলাকার ধনাঢ্য ব্যক্তিরা স্কুলের সহযোগিতায় এগিয়ে আসতো অথবা রাষ্ট্র কর্তৃক কোন অনুদান পাওয়া গেলে স্কুলটি আরও আধুনিক ও স্মার্ট স্কুল করে জেলার অন্যতম স্কুলে উপনীত করা সম্ভব হবে।”এছাড়াও স্কুলটি অন্যান্য স্কুল থেকে যে কারণে ব্যতিক্রম: স্কুলের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ: গাছ গাছালির ছায়াঘেরা মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজস্ব ক্যাম্পাসে পাঠদানের ব্যবস্থা।আধুনিক, বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও কর্মমুখীতার সমন্বয়ে যুগোপযোগী পাঠাদান।
বিষয় ভিত্তিক যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক মণ্ডলীর দ্বারা পাঠদান।সরকারি কারিকুলামের যথাযথ অনুসরণ। সরকারি, বেসরকারি বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা।আধুনিক ও আরবি শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত শারীরিক শিক্ষা ও নিয়মিত খেলাধুলার সু ব্যবস্থা। নিয়মিত মাসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা।সৃজনশীল পদ্ধতিতে ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শিখানো হয়।রাতে ছাত্র / ছাত্রীদের মনিটরিং এর ব্যবস্থা।নিয়মিত অভিভাবক যোগাযোগ ও তিনমাস অন্তর অন্তর অভিভাবক সমাবেশ।শিক্ষা সফর ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা।
বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থাস্কুলের নিয়ম ও শৃঙ্খলা, ইউনিফর্ম, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা বাধ্যতামূলক।