
ভয়ঙ্কর প্রতারক সিকদার লিটন। মাদকসেবনের পাশাপাশি নারীসঙ্গ তার বেশি পছন্দ। তাই তো সু-কৌশলে বহুনারীকে করেছে তার শয্যাসঙ্গী। বিয়ে করে হোক আর বিবাহ-বর্হিভূত হোক নারীলিপ্সু এই প্রতারকের মাধ্যমে সর্বশান্ত হয়েছেন অনেক নারী। এবার সেই ভয়ঙ্কর প্রতারক সিকদার লিটনের ফাঁদে পা দিয়েছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার তৃপ্তি খানম।
একসঙ্গে ঢাকার একটি হোটেলে একান্তে সময় কাটিয়েছে তারা; যা এলাকায় জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সিকদার লিটন নিজে বিবাহিত হলেও তৃপ্তি খানম অবিবাহিত একজন নারী।
আলফাডাঙ্গায় একটি হাসপাতালে কাজ করেন তিনি। মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এই তৃপ্তিকে নিয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানিসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করেছেন। তাছাড়া ঢাকার হোটেলে নিয়ে রাত্রীযাপন করেছেন সিকদার লিটন। রাজধানীর নবাবপুর রোডের হোটেল মুস্তারিতে রাত কাটান তারা। ১৯ই ফেব্রুয়ারি হোটেলে দু’জন প্রবেশ করেন বলেন জানান সেখানকার সহকারী ম্যানেজার জিয়াউল হক। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা রুমে দিতে চায়নি। পরে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সিকদার লিটন জোরপূর্বক ওই নারীকে নিয়ে আমাদের এখানে অবস্থান করেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ায় আমরাও আর বাড়তি ঝামেলায় যায়নি।’ তবে লিটন কোন পত্রিকায় কাজ করে সেই সংক্রান্ত কোনো কিছু জানাননি বলে জানান জিয়াউল।
জানা গেছে, প্রতারক সিকদার লিটনের বাড়ি আলফাডাঙ্গার টগরবন্দ ইউনিয়নে। নিজের বাবা-মা মারা গেলেও তাদের জানাজায় অংশ নিতে এলাকায় আসতে পারেননি তিনি। কারণ, তার কারণে এলাকার মানুষ এতোটাই অতিষ্ঠ ছিল যে, তাকে মাথা ন্যাড়া করে এলাকা ছাড়া করেন স্থানীয়রা। স্থানীয় আঞ্জিরা বেগম নামে একজন নারী বলেন, ‘আমার বাড়ি থেকে মোবাইল চুরি করেছিল এই লিটন। পরে এলাকায় সালিশ বসে। সালিশে লিটন আমার পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বলেছিল__ ‘সে জীবনে আর এসব খারাপ কাজ করবে না। আমি তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। পরে একদিন সিকদার লিটন আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে।
টাকা না দিলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেবার হুমকি দেয়। আমি তাকে টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় এলাকার অনেকের সামনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে। সেই ঘটনায় মামলা করলে সে এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং অনেকদিন হাজতে ছিল।’
আঞ্জিরা বেগম বলেন, ‘জেল থেকে বেরিয়ে কিছুদিন খুলনায় ছিল লিটন। পরে দেখি কম বয়সী এক সুন্দরি মেয়েকে নিয়ে এলাকায় এসেছে। দু’দিন পর শোনা গেল ওই মেয়েরা অনেক বড়লোক। কৌশলে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামে এনেছিল। পরে মেয়ের পরিবার পুলিশের সহায়তা মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এই ঘটনা নিয়ে সেসময় এলাকায় অনেক কিছু হয়েছিল।’
এদিকে সিকদার লিটনের বর্তমান স্ত্রী সম্পর্কে তার নিকটাত্মীয় ছিলো। তাকে বিয়ে করতে শ্বশুর জাপান মুন্সির নামে পাঁচটি মিথ্যা দেয় এই প্রতারক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকসেবি সিকদার লিটনের নারীঘটিত অনেক ঘটনা এলাকার মানুষ জানে। তাছাড়া এমন কোনো অপরাধ নেই যার সঙ্গে জড়িত নই ভয়ঙ্কর এই প্রতারক। এবার বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক ছাড়া একই এলাকার মেয়ে তৃপ্তি খানমকে নিয়ে হোটেলে রাত্রীযাপন করে আলোচনায় তারা দু’জনই। সিকদার লিটন খারাপ চরিত্রের হলেও তৃপ্তির ব্যাপারে সবাই ছি: ছি: করছে। অবিবাহিত একজন নারী হয়ে কীভাবে ঢাকায় গিয়ে একই হোটেলে রাত্রীযাপন করল তা নিয়েও এলাকায় কানাঘুষা হচ্ছে। প্রতারক লিটনের বিরুদ্ধে মোট ৩৬টি মামলা ও জিডির তথ্য মিলেছে। যার মধ্যে হত্যাচেষ্টা, প্রতারণা, নারী নির্যাতন, মাদক, অপহরণ অন্যতম।
তৃপ্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক করে তাকে দিয়ে সিকদার লিটন মামলা বাণিজ্য করছে বলে মনে করেন আলফাডাঙ্গার সাবেক মেয়র আলী আকসাদ ঝন্টু। তিনি বলেন, ‘প্রতারক লিটনের উদ্দেশ্য এখন পরিস্কার। এলাকার তৃপ্তি খানমকে কৌশলে সে ব্যবহার করছে। শুনেছি তারা ঢাকায় একসঙ্গে হোটেলেও রাত কাটিয়েছে।’
বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু বলেন, ‘প্রতারণা যার পেশা তার কোনো মিষ্টি কথায় ভোলা যাবে না। এলাকার আর কত মেয়ের জীবন নষ্ট করবে এই লিটন।’
আলফাডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু বলেন, সিকদার লিটন একজন বহুল বিতর্কিত ব্যক্তি। সম্মানিত ব্যক্তিকে অসম্মানিত করে ফায়দা লোটার তার অপচেষ্টা বন্ধ করতে হবে।’
টগরবন্দ ইউনিয়নের প্রবীণ নাগরিক সাবেক স্কুল শিক্ষক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সিকদার লিটন নিয়ে অভিযোগ শুনতে শুনতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। লিটনের নারীঘটিত কেলেংকারিও এলাকাবাসীর মাথা গরম করে দিয়েছে।’