
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মজিদুল ইসলাম (২৮) নামের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফুলবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এই দুর্ঘটনাটি ঘটে ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পানিমাছকুটি গ্রামে। নিহত যুবক ওই গ্রামের মৃত জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।
ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুনুর রশীদ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার থানায় একটি ইউডি মামলা করেছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, নিহত যুবক দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছিলেন। ঢাকায় গার্মেন্টসে কাজ করার সময় সিলেটের হবিগঞ্জের মেয়ে ইয়াসমিনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে পারিবারিকভাবে ৬ থেকে ৭ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। মাত্র তিন শতক জমিতে মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে সংসার চলতো। অভাব ছিল তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। তার ঘরে চার বছরের ছেলে সন্তানও রয়েছে। বাড়িতে প্রায় সময় মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তেন এবং প্রায় সময় কোনো কারণ ছাড়াই বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর ও পরিবারের ওপর অত্যাচার করতেন। তার মা ছেলের সুস্থতার জন্য নানা চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। স্বামীর এই আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ৭ মাস আগে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
মৃত যুবকের মা মঞ্জু বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেটাকে দুপুরে বাড়িতে রেখে ছাগলের ঘাস সংগ্রহ করতে যাই। এরপর বিকালে বাড়িতে ফিরে ঘরে ঢুকে ছেলের মরদেহ আঁড়ার সাথে ঝুলতে দেখে চিৎকার দেই।” পরে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন এবং ফুলবাড়ী থানার পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।