
এইচ,এম,শহিদুল ইসলাম, মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধি:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালীতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার তুলাতলা কাশ্মীর নদীরপাড়ে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দার অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়।”প্রতিশ্রুতি নয়,চাই বাস্তবায়ন”— এই স্লোগানকে সামনে রেখে ইয়ুথনেট গ্লোবালের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এটি বিল্ডিং এজেন্সি অফ ইয়ুথ ইন ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হয়, যেখানে স্থানীয় লজিক ইয়ুথগ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্রিটিশ কাউন্সিল ও অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ কর্মসূচির সহায়তা করে।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছর জোয়ারে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়, কৃষিকাজ ব্যাহত হয় এবং জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”প্রতিবার আশ্বাস পাই, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। প্রতি বছর ঘরবাড়ি ভেসে যায়, নতুন করে গড়তে হয়। কিন্তু কতদিন এভাবে চলবে?”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ভুক্তভোগীরা, যাদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল আলীম হাওলাদার, কাশ্মীর জামে মসজিদের ইমাম মোঃ আব্দুল হাই, মোঃ মিন্ঠু হাওলাদার, গৃহিণী ফরিদা বেগম ও শিক্ষার্থী মরিয়ম আক্তার।তারা বলেন,”উপকূলের মানুষের জীবন বাঁচাতে সাময়িক প্রতিশ্রুতি নয়, চাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও টেকসই বেড়িবাঁধ।”জেলা লজিক ইয়ুথগ্রুপের টিম লিডার মোঃ নাজমুল তালুকদার জানান,”দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে টেকসই বেড়িবাঁধের প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতি বর্ষায় জোয়ারের পানিতে মানুষ দুর্ভোগে পড়ে, আবার ভাটার সময় শুকনো মাটির কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হয়।”মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে বিভিন্ন দাবির প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যেখানে লেখা ছিল—
“প্রতিবার ত্রাণ নয়, চাই স্থায়ী সমাধান!”
“আজ যদি টেকসই বাঁধ হত, ঘরবাড়ি ডুবে যেত না!”
“আমরা কর দেই, সরকার টেকসই বাঁধ দিক!”
“নদী ভাঙনে হারিয়ে যাই, কবে টেকসই বাঁধ পাবো ভাই?”
“জোয়ার এলে ভাসতে হয়, সরকার কবে জাগবে?”
স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যাবেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সমস্যার সমাধান না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তাদের একমাত্র দাবি— স্থায়ী বেড়িবাঁধ, যা উপকূলবাসীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করবে।