
ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে সরাসরি জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হারিচুর রহমান সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ।
বুধবার খিলগাঁও থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সাখাওয়াত হোসেন আদালতে রিমান্ড আবেদন করেন। একইদিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.দাউদ হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন,’হারিচুর রহমান সোহানকে গ্রেফতারের পর সিটিটিসি আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। মঙ্গলবারই তাকে আদালতে তোলা হয়। পরে আদালতে তাকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। আমরা সোহানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছি। তবে রিমান্ড আবেদন নিয়ে এখনো শুনানি হয়নি।
তাকে জিজ্ঞাসাবাদে যেদিন আদালতে শুনানি হবে সেদিন সোহানকে কারাগার থেকে আনা হবে।’ তবে শুনানির তারিখ ঠিক হয়নি বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
এদিকে মঙ্গলবার ভোররাতে রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার শ্যালক হারিচুর রহমান সোহানকে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দমনে জড়িত অভিযোগে তিনটি মামলা রয়েছে।
শ্রমিক লীগ নেতা সোহান তার বোনজামাই কারাবন্দী সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার ক্যাশিয়ার ছিলেন। আছাদুজ্জামান ও তার পরিবারের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ নিয়ে তদন্ত করছে দুদক।
এরইমধ্যে তাদের পরিবারের ১০ সদস্যের সকল ব্যাংক হিসাবসহ যাবতীয় লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি।
সোহানের যত অবৈধ সম্পদ:
আছাদুজ্জামান মিয়ার শ্যালক সোহানের নামে রাজধানীর অভিজাত বেইলি রোড,শাহজাহানপুরে ফ্ল্যাট রয়েছে। বনশ্রী ও আফতাবনগরে একাধিক প্লট রয়েছে। এর মধ্যে বনশ্রীর একটি প্লটে বাড়ির নির্মাণকাজও চলছে।
হারিচুর রহমান সোহান মৌমিতা পরিবহন লিমিটেড, মধুমতি পরিবহন লিমিটেড নামে দুটি কোম্পানির পরিচালক। এছাড়াও ঢাকার নিউমার্কেটে পিওর গোল্ড লিমিটেড নামে স্বর্ণের দোকানের ভাইস চেয়ারম্যান তিনি।
২০২৪ সালের ১৫ মে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভায় এক ব্যবসায়ীর ছেলের কাছ থেকে ৩ কোটি টাকা দিয়ে ৪৩ শতাংশ জমি কেনেন সোহান। তবে স্থানীয়রা জানে আছাদুজ্জামানের টাকা দিয়েই এই জমি কেনা হয়েছে।
সোহানের নামে রাজধানীর বনশ্রী,আফতাবনগরে প্লট রয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডির-৩২ নম্বরে তার নামে একটি বাড়িও কেনা হয়েছে। এছাড়া ফ্ল্যাট আছে নিউ বেইলি রোড, শাহজাহানপুরে। এর মধ্যে বনশ্রীর একটি প্লটে বাড়ির নির্মাণকাজ চলমান।
জাহাজ নির্মাণের জন্য ৩টি ডকইয়ার্ডেও অন্তত ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে সোহানের,মূলত আছাদুজ্জামান মিয়াই এই বিনিয়োগকারী বলে দুদকের অভিযোগসূত্রে বলা হয়েছে।
এছাড়াও হারিচুর রহমান সোহানের নামে ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশালে অন্তত ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ বিঘা জমি রয়েছে। ঢাকার সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান বাস টার্মিনালেও হারিচুর রহমান সোহানের নামে ইজারা নেওয়া আছে। এখানেও আছাদুজ্জামান মিয়া শ্যালক সোহানের নামে অন্তত ১০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করেছে বলে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে।
ডিআই/এসকে