
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে অটোরিকশা চালক জসিম মোল্লা হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় রুজুকৃত মামলায় একজনকে গেন্ডারিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হলো,রনি ওরফে বেলবাটি রনি ওরফে পিচ্চি রনি (৩৭)।
সোমবার গেন্ডারিয়া থানাধীন ঘুন্টিঘর এলাকা থেকে গেন্ডারিয়া ও যাত্রাবাড়ি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো.নাসিম উদ্দিন।
তিনি জানান,গত ৬ জনুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা অটোরিকশা চালক জসিম মোল্লা (৪২) তার বড় ছেলে বিল্লালকে নিয়ে নিজ বাসা হতে দয়াগঞ্জের উদ্দেশে বের হয়। রাত সাড়ে ৮টায় বিল্লাল বাসায় ফিরলেও তার বাবা জসিম ফিরেননি। এরপরদিন যাত্রাবাড়ির মীরহাজিরবাগ তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা রোডের ইঞ্জিনিয়ার গলির মাথায় পাঁকা রাস্তার উপর জসিমের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এ সময় জসিম মোল্লার মাথায়, পিঠে,বাম হাতের কব্জি,বাম পায়ের গোড়ালি ও ডান পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। একই সাথে তার এক হাত এবং এক পায়ের রগ কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৩ জানুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন জসিম মোল্লার স্ত্রী শিল্পী।
মামলাটি তদন্তকালে গ্রেফতারকৃত রনির জড়িত থাকার প্রমাণ পায় পুলিশ যায়। পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তির সহায়তায় রনির অবস্থান সনাক্ত করে গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়,গ্রেফতারকৃত রনি এ হত্যার ঘটনায় নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রনির ভাষ্যমতে,চাচাতো ভাই হানিফের সাথে জসিমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর কারণে ঘটনার দিন হানিফ জসিমকে দেখা করতে বললে জসিম তার বাসা থেকে রওনা দেয়। অপরদিকে হানিফ,পিচ্চি রনিসহ ছয়জন মীরহাজিরবাগ ইঞ্জিনিয়ার গলিতে জসিমের আসার অপেক্ষায় থাকে। জসিম ওই এলাকায় আসলে হানিফের সাথে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে হানিফ জসিমকে মারধর করা শুরু করে। পরবর্তীতে পিচ্চি রনিসহ অন্যান্য সহযোগীরাও জসিমকে মারধর ও কোপাতে শুরু করে। এসময় তারা জসিমের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। এরপর পিচ্চি রনি,হানিফসহ অন্যরা জসিমকে আহত অবস্থায় রেখে চলে যায়।
গ্রেফতারকৃত রনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে দশটির অধিক মামলা রয়েছে।
রনি গ্রেফতার ছাড়াও মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং হত্যায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা নাসিম উদ্দিন।
ডিআই/এসকে