
বরিশাল উজিরপুরের সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা হলেও বর্তমানে পট পরিবর্তনের পর বিএনপির একজন কর্মী বনে গেছেন মাসুদ হাওলাদার। তারই নেতৃত্বে খোঁদ বিএনপির অন্য এক কর্মী ফারুক হোসেন হাওলাদারে উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞতনামা আসামি করে বরিশালের উজিরপুর থানায় একটি মামলা করেন ফারুক হোসেন হাওলাদার।
ফারুক হোসেন হাওলাদার বলেন,প্রথম হামলাটি ঘটে কেবিজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। যেখানে আমি অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে আমি শিক্ষকদের সঙ্গে পাশের এক বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।
মাসুদ হাওলাদার ও বাবুর মিলিত নেতৃত্বে,তার ভাই রাজীব এবং আরও ১০ থেকে ১২ জন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। আর ২০ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র হামলাকারী বাড়িটি ঘিরে ফেলে যাতে কেউ পালাতে না পারে।
তিনি বলেন,পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে,স্কুলের প্রধান শিক্ষক দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) ঘটনাস্থলে পৌঁছান কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়,সেনাবাহিনী উপস্থিত হতেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর,সেনাবাহিনী আমাকে উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে নেয়।
তবে সহিংসতা সেখানেই শেষ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন,পরের দিন রাতে ১১টার দিকে,আমি বাড়িতে ফিরে এসেছি এমন খবর পেয়ে আমার বাড়িতে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বাড়িতে লুটপাট চালায় এবং আমার দ্বিতীয় ছেলে আরাফাত হোসেন গুরুতর আহত করে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদের আহতদের উদ্ধার করে উজিরপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এদিকে অভিযোগ পত্রে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আসামি করা ব্যক্ততিরা হলো,
মো.বাবু হাওলাদার (৩৫), মো. ফরিদ ঢালী (৩২), মো. মাসুদ হাওলাদার (৫০), মো. হাসান ভূইয়া (২৫), মো. ফরহাদ শরীফ (৪০), মো. হানিফ সোহেল হাওলাদার (৩৫), মো.মাছুম হাওলাদার (২৬), মো. আল-আমিন মোল্লা (২৮), মো.আনোয়ার ঢালী (৫০), মিন্টু ঢালী (৩৫), মো. সামিয় হাওলাদার (২২), মো. সজিব হাওলাদার (২২)।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে উজিরপুর থানার এস আই আসাদুল ইসলাম বলেন,এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে দ্রত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।