
কারা কর্মকর্তা,মাদক মামলার আসামী ও কারাগারে খাদ্য সরবরাহকারীদের যোগসাজশে জেলখানায় নিরাপদ মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে বলে চাউর আছে। আর এই মাদক সাম্রাজ্যের হীরক রাজায় পরিণত নাকি ফেনীর ভারপ্রাপ্ত জেলার মো.জাহেদুল আলম।
অনুসন্ধানে জানা যায় ফেনীর ভারপ্রাপ্ত জেলার মো. জাহেদুল আলম পুরো আওয়ামী লীগ আমলে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা চট্টগ্রামের সাবেক ভূমি মন্ত্রী জনাব সাইফুজ্জমান চৌধুরী জাবেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিতেন। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বোল পাল্টে বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা অডভোকেট রুহুল কবীর রেজভী আহমেদ,গিয়াস উদ্দিন আল মামুনদের কাছের মানুষ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। এমনকি হালে তিনি প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব ড.মুহাম্মদ ইউনূসের ছাত্র পরিচয় দিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন।
গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রাম হওয়ার সুবাধে তার সঙ্গে পাশের দেশ মিয়ানমারের মাদক কারবারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়েউঠে। এইভাবে তার সঙ্গে কক্সবাজারের সাবেক এমপি মাদক সম্রাট বদি ও তার ভাইদের সখ্যতা গড়ে ওঠে। ফলে তার মাদকের সাম্রাজ্য বিস্তার নির্বিঘ্নে চলতে থাকে।
কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে ইয়াবার চালান হাত বদল হতো তার মাধ্যমে। এর বাইরে জেলে খাবার সরবরাহকারীদের মাধ্যমে নিরাপদে মাদক পৌঁছে যেত জেলখানায়। অধিকভাবে মাদক সরবরাহের লোভে এভাবে তার মাদক সিন্ডেকেট জেলখানায় খাদ্য সরবরাহকারী একটি মহল যুক্ত হয়। কাঁচা পয়সার লোভে অনেক ঠিকাদার সিন্ডিকেট তাকে পছন্দের জেলখানায় পদায়নের জন্য সব সময় উতালা।
এমন একজন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর মাছ ব্যবসায়ী মো. আলী হোসেন। যিনি জেলখানায় খাদ্য সরবরাহের আড়ালে মাদকের ব্যবসার বদৌলতে অঢেল সম্পদের মালিক। আর যেখানে মাদকের চাহিদা বেশি সেখানে মো. জাহেদুল আলমকে নেওয়ার জন্য মো.আলী হোসেন তদবীরে ব্যস্ত থাকেন। সে জন্য কাশিমপুর কারাগার, নারায়ণগঞ্জ ও কক্সবাজার মো.জাহেদুল আলমের পছন্দের তালিকার শীর্ষে। কারণ এসব কারাগারে নাকি মাদকের রমরমা ব্যবসা ও আখেরি কামাই করা সহজ।
এভাবে সহজে জেলখানায় মাদকের বিস্তার ঘটে ঘরের শত্রু বিভীষণদের মাধ্যমে। যা বেড়ায় খেত খাওয়ার শামিল। আর জেলে থাকা মাদক মামলার আসামিরা সব সময় মো.জাহেদুল আলমের কাছে খুবই সমাদর পায়। যারাই একবার তার সান্নিধ্য পায়,আলাদিনের চেরাগের মতো তাদের ভাগ্য খুলে যায়।
এদেরই একজন বহুল আলোচিত ইয়াবা বাবুল যার সাথে কক্সবাজার কারাগারেই পরিচায়। যে ইয়াবা বাবুল এখন নাকি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বিএনপির কেউকেটা। জাহেদুল আলম ও ইয়াবা বাবুল নাকি এখন হরিহর আত্মা।
এর বাইরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী কয়েদীদের মোবাইলে কথোপকথনের মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে নিয়োজিত গডফাদারদের বাইরে ছড়িয়ে-ছটিয়ে থাকা এজেন্টদের ব্যবসা পরিচালনার পথ সুগম করে দিয়েও হাতিয়ে নিচ্ছেন বড় অঙ্কের কমিশন। এ জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট। এভাবে তিনি অবাধে করছেন মাদক ও সন্ত্রাসী চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,বর্তমান আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো.মোতাহার হোসাইন একজন সৎ,দক্ষ,অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ কর্মকর্তা। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলখানাকে প্রকৃত সংশোধনাগারে পরিণত করতে বদ্ধপরিকর। এ জন্য তিনি জেলখানাকে প্রথমে মাদকের জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। খাবারের মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের ভালো কাজে মনোযোগী হতে সবাইকে সময়োপযোগী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
পাশাপাশি তদারকিও করছেন। অথচ ফেনীর ভারপ্রাপ্ত জেলার ধরাকে সরা জ্ঞান করে জেলখানাকে মাদকের আখড়ায় পরিণত করছেন! এমনকি সহকর্মীদের কাছে তিনি নাকি নিজেকে আইজি প্রিজনের আত্মীয় বলে পরিচয় দিচ্ছেন।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে,ফেনী কারাগার আগে অনেকটাই মাদকমুক্ত ছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে মো. জাহেদুল আলম ফেনী কারাগারে যোগদানের পর শুধু জেলখানা নয়,পুরো জেলায় মাদক ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যাকে বলে একেবারে সয়লাব। আগের চেয়ে মাদকের ভয়াবহতার আধিক্যে সচেতন জনগোষ্ঠী যারপরনাই চিন্তিত।
অভিজ্ঞ মহলের মতে,সরষে ভূত থাকায় মাদকের বিস্তার থামছে না। মাদক সাম্রাজ্যের হীরক রাজা জাহেদুল আলম অচিরেই নাকি কাশিমপুর কারাগারে রাজার হালে বদলি হয়ে যাওয়ার সব রকম আয়োজন সুসম্পন্ন বলে মাদক কারবারি ও তার শুভাকাঙ্খি লোকজনকে বেশ আস্থার সঙ্গে জানান।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার সহকর্মীরা জানান, জাহেদুল আলম কারা বিধি,আইন ও নিয়মের খুব একটা তোয়াক্কা করছেন না। তিনি বহিরাগত লোকজন নিয়ে ইচ্ছেমতো ঘুরাফিরা করছেন। নিজেই ভঙ্গ করছেন কারা বিধি। তার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ চিহ্নিত লোকজন প্রায়ই আসেন। আর মাদক এখানে এখন একরকম ওপেনসিক্রেট বলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রক্ষকই ভক্ষকের রূপ ধারণ করায় জনমনে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।
এব্যাপারে ভারপ্রাপ্ত জেলার জাহেদুল আলমের মুঠোফোনে জানতে চাইলে সে নিজেকে নির্দোষ,নির্বিক এবং দক্ষ হিসাবে দাবী করেন পাশাপাশি ঢাকা জেলখানার ডেপুটি জেলার থাকাকালীন ঠিকাদার যাত্রাবাড়ীর ব্যবসায়ী আলী হোসেন এর সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেন।
ডিআই/এসকে