
আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল বলেছেন,আমি মনে করি পুলিশ ও কোর্টসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবকিছু ঠিকমতো যখন কাজ করবে,তখন মবের প্রকোপ কমে যাবে।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ নজরুল বলেন, আমরা এখন একটা চ্যলেঞ্জিং সময়ে বাস করছি, যে সময় বাংলাদেশের ইতিহাস অবিনাশ হয়েছে। পৃথিবীর বহু দেশে এমন কখনোই দেখি নাই। আপনারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সহস্র হত্যাকাণ্ড দেখেছেন। হাজার হাজার তরুণ ছাত্রের অঙ্গ হানির ঘটনা দেখেছেন। আপনারা নিশ্চয়ই অনেকে অনেক ফুটেজ দেখেছেন। দেখলে মনে হয় যেন গাজার মত ইসরাইলি বাহিনী হত্যা করছে। একটা ভিডিও গেম খেলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা এমন সময় কখনো পাই নাই, যখন বাংলাদেশে ১৫ টা বছর ফ্যাসিস্টের শাসন ছিল। আমরা এরকম সময় কখনো পাই নাই যেখানে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানগুলোর এরোসন হয়েছে।
বিচারপতীদের উদ্দেশ্যে এসময় তিনি বলেন, আমাদের যারা জজ (বিচারক) আছেন তাদের কাছে আমাদের অনুরোধ আপনারা হুট হাট করে জামিন দিবেন না।
জামিন পাওয়ার পরে একজন মানুষ দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য যদি ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যদি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে একই অপরাধ আবার করার চেষ্টা করে তাহলে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনাদের বিচার্য বিষয় হওয়ার কথা। আবার যিনি জামিনের যোগ্য গত আমলের মত তাকেও জামিন থেকে বঞ্চিত করবেন না। ওভার অল যে সিচুয়েশন সেটা মাথার মধ্যে রাখবেন।
আমরা খুব চ্যালেঞ্জিং সময় অতিবাহিত করছি জানিয়ে তিনি বলেন,পুলিশ ভাইয়েরা অত্যন্ত কষ্ট করে একটা হত্যা মামলার আসামিকে যখন ধরে আনে, জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি সেখানে আপনাদের অবশ্যই জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হতে হবে। আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে এই আসামি গুলো বেড়িয়ে একটা বিচার প্রক্রিয়াকে কতটা বাধাগ্রস্থ করতে পারে। এখানে আপনাদের রিলাক্স হওয়ার কোন সুযোগ নাই এটা অবশ্যই আপনারা মাথায় রাখবেন। যারা এখানে প্রসিডিউটর আছেন আপনারা লক্ষ্য রাখবেন, আপনারা হচ্ছেন সরকার এবং কোর্টের মধ্যে অনেক সময় পুলিশের রিপোর্টে যথেষ্ট তথ্য না থাকলে বা আদালত যদি যথেষ্ট পরিমাণ ওয়াকিবহাল না থাকে অনেক তথ্য দিয়ে, যুক্তি দিয়ে পরামর্শ দিয়ে দায়িত্ব পালন করার স্কোপ আপনাদের রয়েছে।
ডিসিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে ডিসি যারা রয়েছেন আপনারা জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান। প্রসিকিউটের সাথেও আপনাদের বিভিন্ন যোগাযোগ থাকে। আমরা মনে করি এই চারটা প্রতিষ্ঠান যদি সমন্বয়ের করে একসাথে কাজ করে তাহলে বর্তমান চ্যালেঞ্জিংটা আরো সাকসেসফুল মোকাবেলা করতে পারবো। আমাদের এখানে গণহত্যা হয়েছে সেটা মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। ১৫ বছর গুম হয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে, অরাজকতা হয়েছে এগুলো বানানো কথা না। আপনারা প্রত্যেকে জানেন। নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করেন।
তিনি বলেন, যখন দেশের মানুষ দেখবে রাষ্ট্র এক্সিস্ট করে, পুলিশ আদালত ঠিকমতো ফাংশন করে, তখন এই যে মবোক্রেসি বা মব তন্ত্রের বিরুদ্ধে যে আমরা এত বেশি সোচ্চার হই, আমরা এটাকে ভয়াবহ জিনিস মনে করি
কিন্তু যখন পুলিশ কোর্ট আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সবকিছু ঠিকমতো কাজ করবে তখন মবের প্রকোপ আমি মনে করি আরো কমে যাবে। দেশে একটা সহনীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। মানুষ দেখতে চাই রাষ্ট্র। সে ক্ষেত্রে আমরা সবাই আরো বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিব। আরো বেশি কোয়ারডিনেট করব। আমরা সবাই রাষ্ট্রের কর্মচারী একটা পরিবারের সদস্য সেই বিষয়টা মাথায় রেখে একজন আরেকজনকে সহায়তা করব।
ডিআই/এসকে