
আমতলী (বরগুনা)প্রতিনিধি ঃ বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও সদস্য সচিব পাল্টাপাল্টি একে অপরকে দোষারোপ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সকাল ১১ টায় জেলা পরিষদ ডাক বাংলায় বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ তুহিন
মৃধা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা বলেন, বহিস্কৃত সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ জালাল উদ্দিন ফকির, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক জহিরুল ইসলাম মামুন ও পৌর বিএনপির আহবায়ক কবির উদ্দিন ফকির ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম
করেছেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, জমি দখলসহ নানা অপরাধে জড়িত। তাদের অত্যাচারে উপজেলার মানুষ অতিষ্ট। তারা একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।গত ৫ আগষ্টের পর জালাল ফকিরের দুই ছেলে রাহাত ফকির ও ফরহাদ ফকিরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলেন। বাসস্ট্যান্ড দখল, সড়কে চাঁদাবাসীসহ সকল অপকর্মে তারা লিপ্ত। রাহাত ফকিরে বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কিন্তু জালাল উদ্দিন ফকির তৎকালিন নির্বাচনে এক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তার পক্ষে কাজ করেছেন।দ্রুত বহিস্কৃত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জালাল
উদ্দিন ফকির ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে দলীয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মকবুল আহম্মেদ খাঁন,
অ্যাডভোকেট নাশির উদ্দিন তালুকদার, কামরুজ্জামান হিরু মৃধা, তরিকুল ইসলাম টারজান, বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম সোহেল তালুকদার, উপজেলা কৃষক দল সভাপতি জাহাঙ্গির আলম, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলাউদ্দিন হাওলাদার, উপজেলা শ্রমিকদল সভাপতি তারিকুল ইসলাম সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক
কামাল বিশ্বাস, ছাত্রদল আমতলী সরকারী কলেজ শাখার সভাপতি রাজিব মৃধা, চাওড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সোহেল মোল্লা ও বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম। অপর দিকে দুপর ২ টায় উপজেলা পরিষদ গেট সলগ্ন দলীয় কার্যালয় সংবাদ সম্মেলন করেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মো. জহিরুল ইসলাম মামুন (ভিপি) মামুন) ও পৌর বিএনপির আহবায়ক মো. কবির ফকির সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক জহিরুল ইসলাম মামুন বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা ও যুবদল আহবায়ক কমিটির ১নং সদস্য সাবেক কাউন্সিলর সামসুল হক চৌকিদার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, জমি দখলসহ নানা অপরাধে তারা জড়িত। তাদের অত্যাচারে উপজেলার মানুষ অতিষ্ট। তারা একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ৮ ফ্রেব্রæয়ারী বাসস্ট্যান্ড কাউন্টার ও সিএনজি স্ট্যান্ড দখল করতে গিয়ে সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জালাল ফকিরের দুই ছেলে রাহাত ফকির ও ফরহাদ ফকিরসহ ৭ জনকে কুপিয়ে গুরুতর জথম করেছে।

তারা এখন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধার চাচাতো ভাই মোতাহার উদ্দিন মৃধা। দলীয় ভাবমুর্তি রক্ষায় তুহিন মৃধা ও সামসুল হক চৌকিদারকে দল থেকে বহিস্কারের দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পৌর বিএনপির আহবায়ক কবির উদ্দিন ফকির বলেন, দলীয় পদ পদবী ব্যবহার করে তুহিন মৃধা ও সামসুল হক চৌকিদার দলের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে দলকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে।
তাদের কারনে আমতলী উপজেলা বিএনপির দ্বন্ধ প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মিল্টন বিশ্বাস, জামাল খাঁন, রুহুল আমিন টিপু, উপজেলা যুবদল যুগ্ম আহবায়ক মাঈনুদ্দিন মামুন, আবু সাইদ জুবায়েরী, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন যুবদল আহবায়ক জালাল হাওলাদার, সদস্য সচিব হাসিব হাওলাদার, বরগুনা জেলা যুবদল
সহ-সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও হলদিয়া ইউনিয়ন যুবদল যুগ্ম আহবায়ক সফিউল্লাহ ও সদস্য সচিব আরিফ গাজী। আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিজেদের অপকর্ম ম্লান করতে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।তাদের অনৈতিক কর্মকান্ড আমতলীবাসী সকলেই অবগত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, আমতলীর বিষয়ে আমি অবগত আছি। তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।