
ঢাকা – ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫: বাংলাদেশে নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ৩৬.৩% থেকে বেড়ে ৪২.৬৭% হলেও, মাঝারি ও উচ্চ পর্যায়ের নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব এখনও আশঙ্কাজনকভাবে কম। সামাজিক রীতি, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য, এবং পরিবারিক দায়িত্বের কারণে ক্যারিয়ারে বিরতির মতো কাঠামোগত বাধাগুলো নারীদের পেশাগত উন্নতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার লক্ষ্যে, অক্সফাম বাংলাদেশ ও ওয়াটারএইড বাংলাদেশ যৌথভাবে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ‘অনির্বাণ – Rise & Lead’ নামে একটি নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সূচনা করেছে। এই উদ্যোগটি মধ্য-পর্যায়ের পেশাজীবী নারীদের ক্ষমতায়ন এবং ক্যারিয়ারে বিরতির পর তাদের পুনরায় কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ ও নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণে সহায়তা করবে। ঢাকা বনানীর শেরাটন হোটেলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের প্রধান ব্যক্তিত্ব, উন্নয়ন সংস্থা এবং নীতিনির্ধারকরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমাইরা আজম বলেন, “অনির্বাণ – Rise & Lead’ একটি অসাধারণ উদ্যোগ। সফলতা শুধু শিক্ষাগত দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না—এর জন্য প্রয়োজন আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা, মানসিক প্রশিক্ষণ এবং অতিরিক্ত সময়কে কাজে লাগানোর কৌশল। আপনার জ্ঞান থাকলে আপনি সফল হবেন, তবে সেই সঙ্গে প্রয়োজন জোরালোভাবে কথা বলার আত্মবিশ্বাস, নিজেকে সাবলীলভাবে উপস্থাপন, ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা।”
তিনি আরও বলেন, “সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে, এবং পুরুষদের এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। নারীদের নেতৃত্বে আসার পথে তাদের সহযোগিতা ও সমর্থন করা উচিত। ভেতর থেকে জেগে উঠতে হবে এবং বাধাগুলো ভাঙতে হবে, যাতে স্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।”
‘অনির্বাণ – Rise & Lead’ উদ্যোগের মাধ্যমে পরামর্শদাতা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও নীতি পরিবর্তনের জন্য সোচ্চার হয়ে নারীদের নেতৃত্বের পথে বাধা দূর করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আশীষ দামলে বলেন, “অগ্রগতির পরও অনেক নারী অদৃশ্য প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, যা তাদের ক্যারিয়ারের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে। এখনই সময় এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করার, যেখানে বৈচিত্র্যময় নেতৃত্বকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।”
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান বলেন, “একটি ক্যারিয়ার ব্রেক কখনোই একজন নারীর সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে পারে না। কাঠামোবদ্ধ সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করে আমরা নারীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসতে সাহায্য করতে পারি, যাতে তারা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে নেতৃত্বের জায়গায় অবদান রাখতে পারেন।”
অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের উইমেন’স রিটার্নশিপ প্রোগ্রামের প্রকল্প সমন্বয়ক নুসরাত আনোয়ার এবং অক্সফাম বাংলাদেশের ইকোনমিক ইনক্লুশন অ্যান্ড জাস্টিস বিভাগের প্রধান বিদোওরা তাহমিন খান একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যেখানে কিভাবে এই উদ্যোগটি নারীদের ক্যারিয়ার পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সাহায্য করবে এবং নেতৃত্বের পথ সুগম করবে তা তুলে ধরা হয়।
এরপর অনুষ্ঠিত হয় ‘ব্রেকিং ব্যারিয়ার্স: আধুনিক কর্মক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা। এটি পরিচালনা করেন লিডারশিপ কোচ ও অর্গানাইজেশনাল ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্ট চেঞ্জম্যানট্রাস। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন:
কবিতা বোস, কান্ট্রি ডিরেক্টর, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল
উমা চ্যাটার্জী, লিডারশিপ কোচ ও OD কনসালট্যান্ট, ChangeMantras
মো. রুবাইয়াত সরওয়ার, সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ইনোভিশন কনসাল্টিং
শাহীন আনাম, নির্বাহী পরিচালক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন
হাসনে আরা বেগম, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক
মাহেরিন আহমেদ, কমিউনিকেশনস ম্যানেজার, সিআইএমএমওয়াইটি
এই আলোচনা পর্বে কর্মক্ষেত্রে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সম্ভাব্য পথগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে ‘LabTalk and Career Fair’ অনুষ্ঠিত হয়, যা নারী পেশাজীবীদের বিভিন্ন শিল্প খাতের নিয়োগ কর্তাদের সঙ্গে সরাসরি নেটওয়ার্কিং করার সুযোগ দেয়। নেতৃত্বের ভূমিকায় নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই আয়োজনটি পেশাদার নারীদের জন্য নতুন সুযোগ উন্মুক্ত করে দেয়।