
পঞ্চগড়ে এনআইডিসহ যাবতীয় পরিচয় যাচাইয়ে চেহারা ও ছবি মেলানোর মত সেকেলে পদ্ধতি বাতিল করে আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার দাবীতে পর্দানশীন নারী সমাজের ব্যানারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার দুপুরে পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তারা তাদের দাবীগুলো তুলেন ধরে বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানিক ইসলাম এদেশের শতকরা ৯৮% মানুষ হচ্ছে মুসলমান। তারপরও এদেশের পরিপূর্ণ পর্দা করতে গেলে পর্দানশীন নারীদের প্রতিনিয়ত নিপীড়ন ও বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে সরকারি বেসরকারি প্রতিক্ষেত্রে অধিকার বঞ্চিত হচ্ছেন। পর্দানশীন নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে মৌলিক ও নাগরিক অধিকার আটকে রেখে ছবি তুলতে ও চেহারা দেখাতে বাধ্য করা হচ্ছে।এ সমস্ত পর্দানশীন নারীর পিতা-গত বাংলাদেশী এবং এবং তারা নিজেরাও বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ করেছেন। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পরিপূর্ণ পর্দা করার কারণে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
নির্বাচন কমিশনের সাবেক কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুখচ্ছবি না তোলার অজুহাতে পর্দাশীল নারীদের নাগরিকত্ব আটকে রেখেছে। এতে পর্দানশীন নারীরা মৌলিক নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ কষ্টে পতিত হয়েছেন। অনেক পর্দানশীন নারী চিকিৎসায় মারা গেছেন কিন্তু এনআইডি ছাড়াও ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত জমি বিক্রি
করতে পারছেন না। অথচ সম্প্রতি বিক্রি করতে পারলে তিনি চিকিৎসা খরচ বহন করতে পারতেন। এসময় তারা ১. বিগত ১৬ বছর যাবত যে সমস্ত সাবেক ইসি কর্মকর্তা পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব আটকে রেখে মানবাধিকার বঞ্চিত করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা।
২. পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসীর অধিকার অক্ষুন্ন রেখে অবিলম্বে এনআইডি ও শিক্ষা অধিকার প্রদান করা। সকল ক্ষেত্রে পরিচয় সনাক্তে চেহারা ও ছবি মেলানোর সেকেলে পদ্ধতি বাতিল করে আধুনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা।
৩. পর্দানশীন নারীদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়ায় সময় পুরুষ নয়, নারী সহকারী বাধ্যতামূলক রাখার তিনটি দাবী তুলে ধরেন।সমাবেশ শেষে পাঁচজনের প্রতিনিধি দল জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার নিকট স্মারক লিপি পেশ করেন।