
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অটোরিক্সা চালক ইব্রাহিম খলিলের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন ও বিচারের দাবি জানিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন পিতা সেকান্দার আলীসহ পরিবারের সদস্যরা।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পিপুলেশ্বর গ্রামের নিজ বাড়িতে লিখিত বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রায় ১৭ বছর আগে উপজেলার কলসপাড় ইউনিয়নের ফটিয়াকান্দি গ্রামের আমির উদ্দিনের মেয়ের সাথে একই ইউনিয়নের ইব্রাহিম খলিলের বিয়ে হয়। ওই দম্পতির এক কন্যা ও এক ছেলে সন্তান আছে। সাংসারিক বিভিন্ন কারণে তাদের প্রায়ই পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। এ অবস্থায় তার স্ত্রী চারমাস আগে সন্তানদের ফেলে বাবার বাড়ি চলে যায়। এদিকে স্ত্রী শশুরবাড়ি চলে যাওয়ায় ইব্রাহিমও ঢাকায় চলে যান। সেখানে একটি অটোরিকসা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
এরমধ্যে গত ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে ইব্রাহিম। এর কয়েকদিন পর ২৪শে ডিসেম্বর রাতে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন ইব্রাহিম।
এরপর ২৫ ডিসেম্বর সকালে ইব্রাহিমের মরদেহ তার শ্বশুরবাড়ির কাছে অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা তার স্বজন ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়।
এদিকে এ ঘটনায় ২৯ ডিসেম্বর ইব্রাহিমের স্ত্রীসহ শশুরবাড়ির ৮জনের নামে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন ইব্রাহিমের বড় ভাই রফিকুল ইসলাম।
ইব্রাহিমের বাবা সেকান্দার আলী বলেন, আমরা আশঙ্কা প্রকাশ করতেছি, আমার ছেলেকে তার শশুরবাড়ির লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
স্থানীয় হাতেম আলী বলেন, ছেলেটা খুবই ভালো ও মিশুক স্বভাবের ছিল। আমরা কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারতেছিনা, সঠিক তদন্ত করে ইব্রাহিমের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের দাবি জানাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইব্রাহিমের স্ত্রী আমিরুনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোশারফ হোসেন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আলামত সংগ্রহ করে ভিসেরা রিপোর্টের জন্য ঢাকাতে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। সেখানে যদি হত্যার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইব্রাহিম খলিলের মা আনু খাতুন, বাবা সেকান্দার আলী, ভাই রফিকুল ইসলাম, ছেলে আবুল হোসেন সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।