
ময়মনসিংহের নান্দাইলে বিয়ের প্রলোভনে জিম্মি করে মুক্তিপণের হাত থেকে উদ্ধার করা হলো দুই সন্তান সহ জননীকে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ আহমেদ এর নেতৃত্বে এসআই মো.শাহিনুল আলম স্থানীয় গ্রাম পুলিশের সহযোগিতায় জীবন মিয়ার বাড়ি থেকে জননী সহ তিনজনকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃতরা হচ্ছেন- গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার মাঝিগাতি গ্রামের মৃত আলামিন মোল্লার স্ত্রী শারমিন আক্তার রিমা (৩০), তার দুই সন্তান আবির মোল্যা (০৭), নিবির মোল্যা (০৪)। তবে জিম্মি ও মুক্তিপণকারী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
জানাগেছে, ওই দুই সন্তানের জননী শারমিন আক্তার রিমার সাথে প্রায় দুইমাস পূর্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের আ: মতিনের পুত্র জীবন মিয়া। নিজ এলাকায় তিন-তিনটি বিয়ে করে জীবন মিয়া। সর্বশেষ তার স্ত্রী দুই সন্তান রেখে মারা যাওয়ার সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখায় শারমিন আক্তার রিমাকে।
একপর্যায়ে রিমা গত সোমবার তার নিজের দুই সন্তান সহ জীবন মিয়ার কথার প্রলোভনে স্বামীর বাড়ি ত্যাগ করে তার সাথে চলে আসে নান্দাইলে। পরে এ বিষয়ে রিমার পরিবার কাশিয়ানী থানায় তিনজন নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করে।
এদিকে রিমা ও তার সন্তানকে জিম্মি করে রিমার পরিবারের নিকট মোটা অংকের মুক্তিপন দাবী করতে থাকে জীবন মিয়া। পরে বিষয়টি কাশিয়ানী থানা পুলিশ নান্দাইল মডেল থানা পুলিশকে অবহিত করলে বুধবার তাদেরকে জীবন মিয়ার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে রিমার পিতা ও স্বামীর বাড়ির লোকজনের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জীবন মিয়ার বাবা আব্দুল মতিন বলেন, আমার ছেলে ভালো নয়। সে আরও অনেকটি বিয়ে করেছে। তবে টাকার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
নান্দাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ আহমেদ বলেন, জীবন মিয়া পলাতক আছে। আর এ বিষয়ে একটি জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে অপরাধীকে গ্রেফতার সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।