
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ আব্দুল ছাত্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবগঠিত এডহক কমিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রপাগাণ্ডা ছড়িয়ে মিছিল এবং মানববন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর ১:৩০ টায় নিজ অফিস কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানের সামনে মিছিল ও মানববন্ধন শেষ হওয়ার পরই স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওইদিন রাতে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ করেন স্কুল এন্ড কলেজের অফিস সহকারী মো. মাইনুদ্দীন।
অধ্যক্ষ রুহুল আমীন জানান, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে গঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে এডভোকেট মো. জসিম উদ্দিনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম তার পছন্দের প্রার্থীকে সভাপতি করতে আমাকে তার ব্যাক্তিগত কার্যালয়ে ডেকে নেন, সেখানে তিনি রাশেদ খান রিপনকে সভাপতি করতে উপস্থিত আরো নেতাকর্মী নিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু আমি নিয়মবহির্ভূত ভাবে কমিটি প্রস্তাব করতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি আমার উপর ক্ষুব্ধ হন এবং নবগঠিত এডহক কমিটি ও আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা ছড়ান। এর পাশাপাশি ভুল তথ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে মিছিল ও মানববন্ধনে অংশ নিতে বাধ্য করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড থেকে কমিটি প্রকাশের পর নজরুল ইসলাম গত ১১ জানুয়ারি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভুল বুঝিয়ে এবং তার ব্যক্তিগত অনুসারীদের নিয়ে কলেজ প্রাঙ্গণে মিছিল ও মানববন্ধন আয়োজন করেন। ঐ মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া ব্যক্তিরা দলীয় পদধারী এবং কেউ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক নন। মিছিলে আপত্তিজনক ভাষায় আমাকে নিয়ে স্লোগান দেয়া হয়, যা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ও শিক্ষানুরাগীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। মিছিল ও মানববন্ধন শেষে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনায় চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।অধ্যক্ষ আরও বলেন, “নজরুল ইসলামের অভিযোগগুলো মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন। তিনি কমিটি গঠনের সময় নিজের পছন্দের প্রার্থীকে সভাপতি করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। এতে সম্মতি না দেয়ায় তিনি মিথ্যা অভিযোগ করছেন।”
এ বিষয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছেন এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা। এডহক কমিটির প্রস্তাবনায় স্থানীয়দের মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খান রিপনের নাম প্রস্তাবিত হলেও শেষ পর্যন্ত অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিনের নাম আসে, যা নিয়ে আপত্তি রয়েছে।”রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. এমারৎ হোসেন বলেন, ‘চরমোন্তাজ স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান গেটে তালা ঝুলানোর বিষয়ে অবগত আছি। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে তালা ভেঙে ঢুকতে বলেছি। এতে এরা বাধা প্রধান করেন চরমোন্তাজ ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মহিউদ্দিন হাওলাদার,চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সোহেল মুন্সী, চরমোন্তাজ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাকিব হাসান।