
নড়াইল জেলা প্রতিনিধি: নড়াইল পৌর বিএনপি দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে শুরু হয়েছে উৎসবের আমেজ। চলছে প্রার্থীদের জোর প্রচারণা। আগামী (১৮ই জানুয়ারি) শনিবার নড়াইল সদর পৌর বিএনপি’র দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন ২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস উদ্দীপনা দেখে বোঝা যাবে না এটা কোন দলীয় সাধারণ কাউন্সিল। সংসদ বা অন্যান্য নির্বাচনের মত সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের পক্ষে মোটরসাইকেল শোডাউন র্যালি করে প্রচার প্রচারণা করছেন, চলছে মাইকিং ও। নড়াইল পৌর কাউন্সিলে সভাপতি পদে তিনজন সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চারজন নির্বাচন করছেন। সকাল দশটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত নড়াইল জেলা শিল্পকলায় বিরতিহীন ভাবে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নড়াইল পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে মোট কাউন্সিলর (ভোটার সংখ্যা) ৬৩৯ জন। সভাপতি পদে মোহাম্মদ আলী হাসান ঘোড়া , মোহাম্মদ আজিজুর রহমান চেয়ার, মো. তিলায়েত হোসেন বাবু মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে রেজাউল খবির রেজা আনারস, খন্দকার ফশিয়ার রহমান দেয়াল ঘড়ি, মো. ফরিদ হোসেন বিশ্বাস মোমবাতি, মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জমাদ্দার মোরগ, মো. দেলোয়ার হোসেন ফুটবল, ফজলুল হক ফয়েজ ছাতা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মো. এবাদত মিনা টিউবয়েল, মো. ইব্রাহিম শেখ তালা, মো. আরমান আলী খান মাছ, মো. মঞ্চিল ইসলাম গোলাপ ফুল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোহাম্মদ আলী হাসান বলেন, আমার রাজনীতি শুরু ছাত্রদল দিয়ে। আমি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক, সভাপতি ছিলাম। বর্তমানে নড়াইল জেলা বিএনপি’র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হিসাবে আছি। আমি আগামী দিনের দেশনায়ক তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য নড়াইল পৌর কাউন্সিলে সভাপতি পদে নির্বাচন করতেছি। মোহাম্মদ আলী হাসান আরো জানান, বিজয়ী হইলে জাতীয়তাবাদী দলের সাংগঠনিক অবকাঠামো ও দলের মূল সংস্কৃতি শক্তিশালী করবো। সামাজিক ভাবে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদক মুক্ত পৌরসভা গড়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করবো। সামাজিক ভাবে পৌরসভার যুব সমাজের নানাবিধ সমস্যার সমাধান ও বেকার- যুবসমাজের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো। বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডকে পূর্ণাঙ্গ সংস্কার ও গতিশীল করবো। সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, আমি নড়াইল পৌর বিএনপিকে ২৭ বছর নেতৃত্ব দিয়ে আসতেছি আমি এবারও সভাপতি পদে নির্বাচিত হলে নড়াইল পৌরসভার সকল নেতাকর্মীদের পাশে থাকবো পৌরসভার উন্নয়ন করব। আমি গত সাতারো বছরে বিভিন্ন হামলা মামলা শিকার হয়েছি, জেল খেটেছি। আমার মায়ের জানাজায় আসতে পারি নাই। আমি আশাবাদী নেতাকর্মীরা আমাকে আবারও নির্বাচিত করবেন। সভাপতি প্রার্থী মোহাম্মদ তেলায়েত হোসেন বাবু বলেন, আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নড়াইল পৌর শাখার কাউন্সিল-২০২৫ সভাপতি পদে নির্বাচন করছি। আমি সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদল, নড়াইল জেলা শাখা সাবেক নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক, নড়াইল পৌরসভার বারবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। আমাকে মোটরসাইকেল মার্কায় ভোট দিয়ে-জয়যুক্ত করলে নড়াইল পৌরসভাকে সুসংগঠিত করে একটা মডেল সংগঠনে রূপান্তর করব। আমি ৯০ এর সৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। গত ১৭ বছরে বিভিন্ন হামলা মামলা শিকার হয়েছি জেল খেটেছি। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. রেজাউল খবির রেজা বলেন, আমার আব্বা ১৩ বছর বিএনপি সেক্রেটারি ছিলেন। আমি বিএনপি পরিবারের ছেলে। ৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করে হমলা মামলার শিকার হয়েছি জেল খেটেছি। বাড়ি ঘুমাতে পারতাম না। আমি ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক, পৌর বিএনপি, নড়াইল সাবেক সাধারণ সম্পাদক, পৌর বিএনপি, নড়াইল জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। মো. রেজাউল খবির রেজা আরো বলেন, আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে পৌর বিএনপিকে শক্তিশালী করার সুযোগ দিন। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আশা করি আমি আল্লাহর রহমতে বিজয়ী হব। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী খন্দকার ফশিয়ার রহমান জানান, আমি বার বার কারা নির্যাতিত সাবেক ছাত্রনেতা, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক। আমি এই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচন করছি। আমার প্রতীক দেওয়াল ঘড়ি। আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে নড়াইল পৌরসভার নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢেলে সাজাবো দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. ফরিদ হোসেন বিশাস বলেন, আমি আওয়ামী স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের অগ্রণী সৈনিক, সর্বোচ্চ হামলা মামলার শিকার ও বারবার কারা নির্যাতিত নেতা, নড়াইল জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। আমি নির্বাচন হলে নড়াইল পৌরসভার নির্যাতিত ত্যাগী কর্মীদের পাশে থাকবো। সাবেক ছাত্রনেতা ও জেলা শ্রমিকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মফিজুর জমাদ্দার বলেন, মোরগ মার্কায় ভোট দিয়ে জায়যুক্ত করলে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হবে মডেল পৌরসভা গড়া হবে। সাংগঠনিক সম্পাদক প্রার্থী মো. আরমান আলী খান বলেন, আমি নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা ছিলাম। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের অগ্রণী সৈনিক ষড়যন্ত্র হামলা মামলার শিকার ও বারবার কারা নির্যাতিত নেতা। আমাকে মাছ মার্কায় ভোট দিয়া জয়যুক্ত করলে পৌরবাসীর খেদমত করবো। ত্যাগী কর্মীদের পাশে থাকবো। কাউন্সিলর বা ভোটাররা জানান, যে দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে তাদের বেছে নেওয়া হবে নড়াইল পৌরসভার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য।