
জহিরুল ইসলাম ঝিকরগাছা যশোর সংবাদদাতা: কালের সাক্ষী হয়ে শত বছরের ইতিহাস নিয়ে মাথা তুলে যশোরের রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ। যশোর শহর থেকে বেনাপোলের দিকে ১৮ কিলোমিটার গদখালী ফুলের বাজার।
দেখে মনে হতে পারে সৃষ্টিকর্তা নিজ হাতে তৈরি করেছেন ফুলের এক স্বর্গ রাজ্য। কাকডাকা ভোরে সাইকেল, ভ্যান অথবা মোটরসাইকেলে করে চাষিরা ফুল নিয়ে আসেন গদখালীর পাইকারি ফুলের বাজারে।সূর্যের আলো ফোটার আগেই রাস্তার দু’পাশে সারি সারি দাঁড়িয়ে থাকেন ফুল বিক্রেতারা। শুরু হয় ফুল ক্রয়-বিক্রয়।
আর এই বাজারের মূল ক্রেতা স্থানীয় ও দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তারা এখান থেকে ফুল ক্রয় করে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর ও খুলনা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। দেশের গন্ডি পেরিয়ে গদখালীর ফুল এখন রপ্তানি হয় বাহিরের বিভিন্ন দেশে।
গোলাপ, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, লিলিয়ান, টিউলিপ, জিপসি, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিক্রি হয় বাহারি রকমের সব ফুল। সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বাজারে ফুল বিক্রি শেষ হয়ে যায়। কোনো দিবস কিংবা বিশেষ কোন দিন এলেই প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকারও বেশি ব্যবসা করেন গদখালীর ফুল চাষি ও বিক্রেতারা।
ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী, নাভারণ ও পানিসারা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় ৬৩০ হেক্টর জমিতে ৭২ প্রজাতির ফুল চাষ হয়। এই ফুল চাষকে কেন্দ্র করে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান। দেশে ফুলের মোট চাহিদার ৭০ থেকে ৭৫ ভাগই সরবরাহ হয় গদখালী থেকে। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই ফুল চাষ কিংবা ফুল বিক্রি পেশার সাথে জড়িয়ে আছে।
এখানে আছে ফুলের সুঘ্রান, মৌমাছির গুঞ্জন আর রঙিন প্রজাপতির ডানায় ভর করে আসা চিরন্তন সুন্দরের বার্তা। প্রায় সব ধরনের ফুলের দেখা মিলবে ফুলের রাজ্যে।ফুলের বাগানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যরা।দেশের সর্ববৃহৎ এই ফুলের রাজ্য ঘুরে আসলে আপনার মনও হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত ও উচ্ছ্বল।