
ঠিকাদারের অবহেলাতে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী অঞ্চলের ঠিকাদার খাজা তারেকের গাফিলতির কারনে নওগাঁর আত্রাইয়ে আত্রাই নদীর বাঁধ মেরামত স্থবির হয়ে পরে রয়েছে।
উপজেলার সাথে সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে থাকার কারনে মালামাল আনয়ন করতে না পারায় দুর্ভোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে মর্মে এলাকাবাসী অভিযোগ জানান।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছেন, ঠিকাদারকে বার বার তাগাদা দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা।
জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৭তারিখে ভারী বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলের কারণে নওগাঁর দুটি প্রধান নদী ছোট যমুনা ও আত্রাই এর পানি বিপদসীমার ১’শ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে আত্রাই উপজেলার চলরামচক মহাশ্মশানের পশ্চিম পার্শ্বে ও আত্রাই-সিংড়া সড়কের জগদাস ও শিকারপুর নামক স্থানে ভেঙ্গে যায়। পানি কমার সাথে সাথে ভেঙ্গে যাওয়া জগদাস ও শিকারপুর স্থানটি সংস্কার করে চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও চলরামচক মহাশ্মশানের পশ্চিম পার্শ্বের ভাঙ্গন ঠিকাদারের অবহেলায় সংস্কার কাজ পরে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বলরামচক মহাশ্মশানের পশ্চিম পার্শ্বে ভাঙ্গন স্থান বালি দ্বারা ভরাট দিয়ে কিছুটা উঁচু করা হয়েছে। তাতে সাধারন মানুষ কোনমতে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। এলাকার মানুষ অতি জরুরী পণ্যসামগ্রী ভ্যান যোগে ভাঙ্গন স্থানে নিয়ে গিয়ে খালি ভ্যান ঠেলে পার করে মালামাল মাথায় করে ভাঙ্গনের ওপারে পুনরায় ভ্যানে উঠাচ্ছেন। এতে পরিবহন খরচ ও শারিরীক কষ্ট কয়েকগুন বেড়ে যাচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
মেসার্স ডিএনপি ব্রিক্স এর সত্তাধিকারী সাধন কুমার পাল অভিযোগ করে বলেন, ভেঙ্গে যাওয়া নদীর বাঁধের উপর দিয়ে তারা ভাটায় মালামাল আনয়ন করে থাকেন। কিন্ত যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পরে থাকায় মালামাল আনতে পারছেন না। তাই তার ব্যবস্যা প্রতিষ্ঠানের চরম ক্ষতি হচ্ছে।
বলরামচক গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, তার গ্রাম হতে জেলা ও উপজেলা সদরে যাওয়ার এক মাত্র রাস্তার বাঁধের কিছু অংশ বন্যায় ভেঙ্গে গেছে । ফলে গ্রামে ভারী কোন মালাল আনা -নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে তাদের নানা ধরনের সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এছারা চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শত শত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের ।
ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মন্ডল জানান, অনেক চেষ্টা করে সেখানের ভাঙ্গন আটকাতে পারিনি। তবে পানি কমে যাবার পর থেকে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগাদা দিয়ে বালি দ্বারা ভাঙ্গা স্থান ভরাটের কাজ শুরু হলেও কিছু দিন থেকে তা বন্ধ রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী অঞ্চলের ঠিকাদার খাজা তারেক(সিজার) জানান,ভাঙ্গনস্থানের ডিজাইন ও এসটিমেট অনুমোদন হয়ে আসামাত্র কাজ শুরু হবে। এতোদিন কিসের ভিত্তিতে বালি ভরাটের কাজ শুরু করেছিলেন আবার তা বন্ধ রাখলেন এমন প্রশ্ন করামাত্র সংযোগ কেটে দিয়ে মোবাইল বন্ধ করে দেন।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানান, ঠিকাদার কাজ পাবার আগে তৎপর থাকলেও কাজ পাবার পরে তার অবহেলা বেড়ে যায়। দ্রুত ভাঙ্গা স্থান মেরামত করার জন্য ঠিকাদারকে বার বার তাগাদা দিলে প্রতিবারই ৪/৫ দিন করে সময় নিয়ে ব্যর্থ হন। সর্বশেষ সময় নেওয়ার পরও ১০ দিন পার হয়ে গেছে।